দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত সংবাদের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন অধিদপ্তর। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (প্রশাসন ও অর্থ) সদস্য হাছিনা বেগমকে আহবায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
দৈনিক কালবেলা গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ‘এক শমসেরই হাতিয়েছেন সরকারের ১৯৪টি প্লট’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে পরদিনই তদন্ত কমিটি গঠন করে সংস্থাটি।
সংস্থাটির জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (প্রশাসন ও অর্থ) সদস্য হাছিনা বেগমকে আহবায়ক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হারিজুর রহমান, পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মেহেদী হাসান, মিরপুরের নির্বাহী প্রকোশলী কাওসার মোর্শেদ, উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা-২) মারিয়া হক সদস্য এবং মিরপুর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিদুয়ার হোসেন সদস্য সচিব করে এই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত ‘এক শমসেরই হাতিয়েছেন সরকারের ১৯৪টি প্লট’ সংবাদে উঠে এসেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সখ্যতা করে জাল নথি তৈরি করে সরকারের (জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের) জমি প্লট করে ব্যক্তি মালিকানায় লিখে দিয়েছেন।
সরকারি নথিতে মালিক নেই, বরাদ্দ নেই, লিজেরও হদিস নেই, অথচ সেই জমিতেই দাঁড়িয়ে আছে ব্যক্তি মালিকানাধীন বহুতল ভবন, মার্কেট ও বসতি।
সংবাদটিতে আরও উঠে আসে, শমসের আলী নামের এক ব্যক্তি নিজের নামে ভুয়া ইজারা দেখিয়ে চার একর জমি দখল করেছেন। পরে সেই জমিতে প্লট করে সেগুলো বিক্রি করে দেন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে। প্রভাবশালীদের হাতে রাখতে কখনো তাদের নামমাত্র মূল্যে প্লট দিয়েছেন।
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী নগর বা শমসের নগরের এসব মূল্যবান জমি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণকৃত। শমসের আলী গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারী ছিলেন না, কিন্তু নিজেকে গৃহায়ন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বছরের পর বছর ধরে অফিস করে জাল-জালিয়াতি করেছেন।
এর আগে ১৯৯৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেখানে পুনর্বাসন, আবাসিক, শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক প্লটের পাশাপাশি খেলার মাঠ, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনার জন্য জমি সংরক্ষণ করা হলেও কারো কোনো অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে বাজার, মার্কেট, কালকারখানা।
