লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সরলখা উচ্চ বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলায় প্রধান শিক্ষক রশিদুল ইসলামসহ ১৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে প্রতিপক্ষ ও বহিরাগতদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মারধরের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে ওই প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে পুনরায় প্রবেশ করলে প্রতিপক্ষ ও বহিরাগতদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে প্রধান শিক্ষক ও ১৩জন শিক্ষার্থী আহত হন।
আহতদের মধ্যে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে প্রধান শিক্ষক ও ৬ জন শিক্ষার্থী এবং আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আরও ৪-৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রধান শিক্ষক রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের পর আমাকে কারণ ছাড়াই অন্যায়ভাবে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে আমি বিদ্যালয়ে এসে মাঠে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলন করতে থাকি। এসময় বহিরাগত লোকজন বাধা দেয় এবং বিদ্যালয় থেকে বের হতে বলে। শিক্ষার্থীরা আমাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগত লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছি। আমরা এর বিচার চাই।’
এদিকে খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের মোবাইল টিম পাঠানো হয়। পরে তিনিও ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
