২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির জন্য মোট ১৪ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের সরকারি বিদ্যালয়ে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।
নীতিমালার দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছর বা তার বেশি ধরে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ সাত বছর হতে পারবে।
অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বয়সসীমা অনুসরণ করতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির বয়স সর্বনিম্ন ছয় ও সর্বোচ্চ আট বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে সাত থেকে নয় বছর, চতুর্থ শ্রেণিতে আট থেকে ১০ বছর এবং পঞ্চম শ্রেণিতে নয় থেকে ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে।
একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বয়স হতে হবে ১০ থেকে ১২ বছর, সপ্তম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ বছর, অষ্টম শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪ বছর এবং নবম শ্রেণিতে ১৩ থেকে ১৫ বছর।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ১ জানুয়ারি, চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতি শ্রেণির একটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশশ্রেণি প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এ নীতিমালার আওতায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
সরকারি স্কুলে ১৪ শতাংশ কোটা
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণির জন্য মোট ১৪ শতাংশ আসন কোটা হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার ১৭ ধারায় কোটা ও আসন সংরক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য পাঁচ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য দুই শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য দুই শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য তিন শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য দুই শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
এদিকে ঢাকা মহানগরের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। বাকি ৬০ শতাংশ আসনে সবার আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে তাদের সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রতি শাখায় পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত আসন রাখা হবে।
ভর্তি কার্যক্রম তদারকির জন্য ঢাকা মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে।