বয়স ৩৫, ৩৬, এমনকি ৩৮- তবু প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের সামনে এখনও দুর্ভেদ্য অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেই প্রমাণই দিলেন জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়নর। চার অভিজ্ঞ বোলারের সম্মিলিত নৈপুণ্যে ডারবানের কিংসমিডে স্বাগতিকদের দুবার অলআউট করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
মঙ্গলবার শেষ হওয়া ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ২১৪ রানে। ব্যাট হাতে ম্যাট রেনশ ১৯০ ও ৮২ রানের দুটি ইনিংস খেলে আলোচনায় এলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ইনিংসেই নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেন তারা।
হ্যাজলউডের বয়স এখন ৩৫। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে নিজের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেছেন ৩৩ বছর বয়সী অধিনায়ক কামিন্স, ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক ও ৩৮ বছর বয়সী স্পিনার লায়ন।
এই চার বোলারের দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়ার পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনমতো বিশ্রাম। কামিন্সের মতে, গত বছরের অ্যাশেজের পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বলেন, ‘গত বছরের অ্যাশেজের পর থেকে আমরা কীভাবে এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারি এবং যতটা সম্ভব ভালো অবস্থায় থাকতে পারি, সেটিই ছিল আমাদের ভাবনার বড় অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আগস্টে ডারউইন টেস্টের আগে আমরা অনেক কাজ করেছি। দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলন করেছি, যাতে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারি এবং পরবর্তী সময়ে তার সুফল পাওয়া যায়। আমার মনে হয়, এখন সেটিই হচ্ছে।’
নিজের জীবনযাপনেও পরিবর্তন এনেছেন বলে জানান নাথান লায়ন। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই মদ্যপান করছি না। যতটা সম্ভব নিজের সামর্থ্য থেকে বেশি কিছু বের করে আনার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয়, সামনে আরও অনেক ভালো ক্রিকেট খেলার সুযোগ আছে।’
এদিকে হ্যাজলউডের প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, ‘ধারাবাহিকতার জন্য তার কথা অনেক বলা হয়। কিন্তু তাতে তার দক্ষতার পুরোটা বোঝা যায় না। নতুন বলে তিনি খুবই দক্ষ। বল রিভার্স সুইং করতে শুরু করলেও তার দক্ষতা একই রকম থাকে। দুই দিকেই বল সুইং করাতে পারেন তিনি।’
দলের প্রয়োজনে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতার জন্য হ্যাজলউড ও স্টার্কেরও প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘দলের যা প্রয়োজন, সেটি পূরণ করতে তারা সব সময় প্রস্তুত থাকেন। অধিনায়কের জন্য এমন খেলোয়াড় পাওয়া স্বপ্নের মতো।’
এমএমএম/
