ঘন ঘন সর্দি-কাশি, দুর্বলতার কবলে পড়ছেন। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে গিয়েছে। এমন সময়ে এমন কিছু খাবার খাওয়া দরকার, যা গায়ে বল জোগাবে। কিন্তু তা বলে পুজোর এই মরসুমে কে-ই বা পথ্য খেতে চান! তার জন্য বাজার থেকে মাশরুম কিনে খেতে পারেন। সুস্বাদু উপায়ে রাঁধলে খেতে ভাল লাগে, আর পুষ্টিও পৌঁছোয় শরীরে।
এতে ফ্যাট, ক্যালোরি ও সোডিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। যার ফলে এটি ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা পালন করে। মাশরুমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন ডি, যা হৃদ্যন্ত্র ভাল রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। মাশরুমের ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করতে এবং এর বি-ভিটামিন স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর।
ফলে আর কিছু না ভেবে সহজেই একটি পদ রেঁধে ফেলুন। মাশরুম ঘি রোস্ট। রইল সেটি বানানোর পন্থা।
উপকরণ
২০০ গ্রাম মাশরুম
৩ টেবিলচামচ ঘি
৫টি শুকনোলঙ্কা
দেড় চা-চামচ গোটা ধনে
দেড় চা-চামচ মৌরি
আধ চা-চামচ গোলমরিচ
১ চা-চামচ গোটা জিরে
২ চা-চামচ তেঁতুলের ক্বাথ
৬-৭টি কাজু
৫-৬টি রসুনের কোয়া
১টি ছোট আদার টুকরো
আধমুঠো কারিপাতা
স্বাদমতো নুন
পরিমাণমতো জল
পরিবেশনের জন্য কুচোনো ধনেপাতা
প্রণালী
একটি বাটিতে গরম জল নিয়ে কাজু এবং শুকনোলঙ্কা ভিজিয়ে রাখুন, যাতে সেগুলি নরম হয়ে আসে।
শুকনো খোলায় ধনে, জিরে, মৌরি এবং গোলমরিচ নেড়েচেড়ে নিন সুবাস ছড়ানো পর্যন্ত।
রোস্ট করা মশলাগুলি একটি ব্লেন্ডারে ভরে নিন। সঙ্গে দিন জলে ভেজানো কাজু এবং শুকনোলঙ্কা। এখানেই তেঁতুল এবং আদা-রসুন মিশিয়ে একসঙ্গে পেস্ট করে নিন।
এ বার একটি প্যান গরম করে তাতে ১ টেবিলচামচ ঘি ঢালুন। মাশরুমগুলি ছোট ছোট করে কেটে ঘিয়ে ভাজতে থাকুন ২-৩ মিনিট। তার পর আঁচ বন্ধ করে মাশরুম তুলে রেখে দিন।
অন্য দিকে, বাকি ২ টেবিলচামচ ঘি প্যানে দিয়ে তাতে কারিপাতা এবং বেটে রাখা মশলা দিয়ে দিন। মিনিটকয়েকের মধ্যে মশলা থেকে ঘি ছাড়তে শুরু করবে। এতে পরিমাণমতো নুন এবং জল ঢেলে দিন।
মশলা ভাল করে কষানোর পর তাতে ভেজে রাখা মাশরুমগুলি ঢেলে দিন। ২-৩ মিনিট কম আঁচে রান্না করুন। প্রয়োজনে এ বার জল দিতে পারেন। আপনি কতটা ঘন খেতে চাইছেন, তার উপর নির্ভর করছে।
শেষে কুচোনো ধনেপাতা ছড়িয়ে দিয়ে গরম ভাত, পরোটা বা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
