ক্রিকেট মাঠে কত স্বপ্নের জন্ম হয়, কত তরুণের চোখে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন বুনে দেন একজন কোচ। নিজের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে যে মানুষগুলো নেপথ্যে থেকে তৈরি করেন আগামীর ক্রিকেটার, তাদের অবদান অনেক সময় মাঠের আলোয় দেখা যায় না। অথচ তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যায় ক্রিকেট, পূরণ হয় অসংখ্য তরুণের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বুনে দেওয়া মানুষগুলোর একজন ছিলেন মোসাদ্দেক আলী ছোটন। তরুণ ক্রিকেটারদের ঘিরে যার ছিল নিরন্তর পথচলা, সেই মানুষটিই হঠাৎ থেমে গেলেন চিরদিনের জন্য।
তিনি আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাকে রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে।
ঢাকা মেট্রোর বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন মোসাদ্দেক আলী ছোটন (ছট্টু)। এছাড়াও ঢাকা ক্রিকেট লিগে বিভিন্ন দলের হয়ে কাজ করেছেন তিনি। তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তার হাত ধরে জাতীয় দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে উঠে এসেছেন অনেক ক্রিকেটার। তাদের সাফল্যের পেছনে তার শ্রম, অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, ইফাজ কাইয়ুমসহ জাতীয় দল ও ঘরোয়া লিগের একাধিক ক্রিকেটাররা তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক থেকে শোকবার্তা জানিয়েছেন।
কোচিংয়ের পাশাপাশি মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সোনালী কিডস ক্রিকেট একাডেমির কর্ণধার এবং মোহাম্মদপুর সোনালী সংঘের স্পোর্টস সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন মোসাদ্দেক আলী ছোটন। এ ছাড়া প্রতিভাবান বোলার খুঁজে বের করার কার্যক্রম ‘রবি বোলিং হান্ট’-এর ঢাকা পর্যায়ে সিলেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও অমায়িক ব্যবহার, আন্তরিকতা ও ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মোসাদ্দেক আলী ছোটন। সহকর্মী, ক্রিকেটার ও পরিচিতজনদের কাছে তিনি ছিলেন আপন একজন মানুষ। মাঠে তার নির্দেশনা, তরুণদের প্রতি তার স্নেহ এবং ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা যারা কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের স্মৃতিতে তিনি বেঁচে থাকবেন দীর্ঘদিন।
তার এই আকস্মিক বিদায় শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, দেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি। যে মানুষটি এতদিন অন্যদের স্বপ্ন পূরণের পথ দেখিয়েছেন, তার চলে যাওয়া সেই পথচলার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
