Published on
:
2 min read
মোহিত দাস, বাঁকুড়া
এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির ছোঁয়া আর দাদু-নাতির সুনিপুণ হাতের জাদুতে মৃন্ময়ী রূপ ধারণ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুর্গাপ্রতিমা। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির দুবেরডাঙার প্রবীণ শিল্পী চণ্ডী সূত্রধর এবং তাঁর নাতি রূপম দাসের যৌথ সৃষ্টি এ বছর শারদোৎসবে দারুণ সাড়া ফেলেছে। পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা মোবাইল স্ক্রিনে এআই-এর তৈরি নান্দনিক দুর্গামূর্তির ছবি নিয়ে আসছিলেন, আর সেই অবয়বকেই নিখুঁত ভাবে মাটির মূর্তিতে ফুটিয়ে তুলেছেন এই দুই শিল্পী। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মণ্ডপে শোভা বৃদ্ধি করছে প্রতিমাগুলি।
এ বছর এই জুটির তৈরি একটি অভিনব প্রতিমা মেজিয়ার তিওয়ারিডাঙার পুজো মণ্ডপে পৌঁছে গিয়ে নজর কেড়েছে সবার। লাল শাড়িতে নৃত্যরত দশভুজা দুর্গা, তাঁর পিছনে নীলকণ্ঠ শিবের তাণ্ডব রূপ এবং নীচে গণেশ-কার্তিকের আধুনিক রূপের আত্মপ্রকাশ। শুধু তাই নয়, বাঁকুড়ার বেলডাঙা, জংপুর, রাধামাধবপুর, বড় লালপুর ও নন্দনপুর সমেত বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও তাঁদের গড়া প্রতিমাগুলি যথাসময়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পারিবারিক পরম্পরা টিকিয়ে রেখে ৬২ বছর বয়সি মৃৎশিল্পী চণ্ডী সূত্রধর জানান, ১৬-১৭ বছর বয়স থেকে তিনি ঠাকুর গড়ছেন। দাদু ও বাবার পথ ধরে এই পেশায় এলেও এ বার তাঁর কাঁধে ১৫টি প্রতিমা গড়ার গুরুদায়িত্ব ছিল। যার মধ্যে আটটি নিজের ওয়ার্কশপে এবং বাকি সাতটি বাইরে গিয়ে তৈরি করতে হয়েছে। বর্ষার কারণে মাটি পেতে সমস্যা হওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। দাদুর যোগ্য উত্তরসূরি রূপম দাস বাঁকুড়া শহরে থাকেন। করোনা-কালে দীর্ঘ লকডাউনের সময় থেকেই তিনি দাদুর কাছে প্রতিমা গড়ার কাজ শিখতে শুরু করেন।
তিওয়ারিডাঙার সেই বিশেষ প্রতিমা প্রসঙ্গে রূপম জানান, মাস দুয়েক আগে পুজো কমিটির পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি লাল শাড়ি পরা এক দেবীর ছবি দেখিয়ে হুবহু বানানোর আবদার করা হয়েছিল। সেই অবয়ব মনের মধ্যে আত্মস্থ করে মূর্তি গড়তে সময় লেগেছে ১০ থেকে ১৫ দিন। এর পরে টানা পাঁচ দিন ধরে নিপুণ ভাবে চলে রঙের কাজ। উৎসবের দিনগুলি এগিয়ে আসতেই তৈরি হওয়া সেই সব প্রতিমা নির্দিষ্ট মণ্ডপে পৌঁছে গিয়ে পুজোকে আরও জমজমাট করে তুলেছে।
