জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কুমিল্লায় যুবদল নেতা আবু কাউসারকে (৪৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবু কাউসার কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি কবির হোসেনের ছোট ভাই। তিনি নিজেও নগরীর ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের নেতা। তাদের বাড়ি একই ওয়ার্ডের কাপ্তান বাজার এলাকায়।
এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে উঠে এসেছে তৌহিদ ও তানজিলের নাম। তারা সহোদর। তাদের পিতার নাম খোরশেদ আলম। জানা গেছে, তৌহিদ, তানজিল ও তাদের পিতা বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
নিহতের পরিবার জানায়, কাউসারের বন্ধু শামীম নদীর পাড়ে একটি জমি কেনে। ওই জমি নিয়েই বিরোধ। সেটি মীমাংসার জন্য তৌহিদ ফোন করে কাউসারকে ডাকেন। কাউসার তার বন্ধু শামীমসহ আরও ৪-৫ মিলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সেখানে গেলে বাহনের মধ্যেই ফেলে তাকে কুপিয়ে জখম করে তৌহিদ ও তানজিলসহ সন্ত্রাসীরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, তৌহিদ-তানজিলরা আগে থেকেই হত্যার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। তাদের হাতে দা ও ছুরি ছিল। ঘটনার পর দুটি মোটরসাইকেল এসে তাদের পালাতে সাহায্য করে।
এ বিষয়ে কাউসারের বন্ধু শামীম জানান, গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে নিজেদের কেনা জায়গা দেখতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় কাউসারের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ লাগে। তারা কাউসারকে টার্গেট করেই কোপাতে থাকে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পড়ে বেঁচে যান।
নিহতের বড়ভাই কবির হোসেন জানান, শনিবার সকালে জানাজা ও মরদেহ দাফন করা হবে। এছাড়া মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, কাউসার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু। তিনি বলেন, কাউসার হত্যার সঙ্গে জড়িতরা আওয়ামী লীগের লোক। শুনেছি জমিটা মাদ্রাসার। ওই জমি নিয়েই বিরোধ।
সাবেক যুবদল নেতা ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান বিপ্লব জানান, অভিযুক্ত খোরশেদ আলম ও তার ছেলে তৌহিদ, তানজিল জমি-জমার ব্যবসাসহ সুদের ব্যবসায় জড়িত। তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। ৫ আগস্টের পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তৌহিদ ৫ মাস জেলও খেটেছে। এখন জামিনে রয়েছে।
এদিকে, খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সদর উপজেলার নন্দীরবাজার গ্রামে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে মাঠে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
