পুজোর মরশুমে পাহাড়ে ভ্রমণের সময় গাড়ির জানালা দিয়ে বিপজ্জনকভাবে শরীর বের করে টয় ট্রেনের ভিডিও করা কিংবা রিলস তৈরি নিয়ে কড়া সতর্কতা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের। নিয়ম ভেঙে ট্রেনের গতিপথে বাধা সৃষ্টি করা অথবা বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে রেল স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কড়া পদক্ষেপের পথে।
১১ অক্টোবর সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে, একটি ছোট গাড়ির জানালা দিয়ে এক পর্যটক বিপজ্জনকভাবে শরীর বের করে চলন্ত বাষ্পচালিত টয় ট্রেনের ভিডিয়ো করছেন। রিলস বানানোর নেশায় বুদ চালক গাড়ি টয়ট্রেনের গা ঘেঁষে নিয়ে যায়। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন ও গাড়ির মধ্যে ঘষা লাগে। গাড়িটি মুহূর্তের মধ্যে পাশে থাকা একটি স্কুটারকে ধাক্কা দেয়। স্কুটারের আরোহী দম্পতি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ওই ভিডিও নজরে আসতে নড়েচড়ে বসেন হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সংস্থার অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানান, ঐতিহাসিক টয়ট্রেন দার্জিলিংয়ের গর্ব ও ঐতিহ্য। পর্যটক এবং গাড়ি চালকদের বরাবর অনুরোধ করা হয়, যেন ট্রেন চলাচলের সময় দূরত্ব বজায় রাখেন। গাড়ির জানালা দিয়ে ঝুঁকে ভিডিও করা কিংবা রিলস বানানো মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। কিন্তু ওই সতর্কতায় অনেকেই যে কর্ণপাত করছে না ১১ অক্টোবরের ভাইরাল ভিডিও তারই প্রমাণ। ওই কারণে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়ম লঙ্ঘন করে ট্রেনের গতিপথে বাধা সৃষ্টি করা এবং বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংস্থার অধিকর্তা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ট্রেন রুট সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা ও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। প্রসঙ্গত এর আগেও পাহাড়ের রাস্তায় গাড়ি চলাচলের পথ এবং হেরিটেজ ট্রেনলাইন যেখানে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে চলে সেখানে জীবন বাজি রেখে ভিডিও অথবা রিলস তৈরির ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দাবি উঠেছে, পাহাড়ি রুটে বাফার জোন তৈরি করা এবং কঠোর ট্র্যাফিক নজরদারি সুনিশ্চিত করার।
এর আগে একাধিকবার একই কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে টয়ট্রেন। ১১ অক্টোবর ঘটনার পর অভিযুক্ত গাড়িচালক ট্রেনচালকের বিরুদ্ধে ‘রং সাইডে’ ট্রেন চালানোর অদ্ভুত অভিযোগ তোলেন। যদিও গাড়ির ভিতর থেকে তোলা ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে ভিডিও তোলার জন্য চালক গাড়ি ট্রেনের খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, রাস্তার উপর বিপজ্জনকভাবে পার্কিংয়ের চেষ্টা করছিল। পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে এবং চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপের পথে।
