Published on
:
3 min read
প্রায় চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন ভুবনেশ্বর কুমার (Bhuvneshwar Kumar)। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ভারতের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় বল হাতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পাননি তিনি। ১,৪২৫ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছিলেন ভুবনেশ্বর।
এর মধ্যে ভারত ১০৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এই ফরম্যাটে দু’টি ম্যাচ খেলার মধ্যে এত দীর্ঘ ব্যবধান আর নেই। তবে ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন শুধু আবেগের গল্প নয়। গত কয়েক মরশুমে IPL-এ নতুন বলে তাঁর দুরন্ত বোলিং পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
নতুন বলে ভুবনেশ্বরের জুড়ি মেলা ভার
২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে IPL-এ নতুন বলে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর। এই চার মরশুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। প্রথম ছয় ওভারে নতুন বলে তাঁর উইকেটসংখ্যা ৪২। এই সময়ে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মহম্মদ সিরাজের চেয়ে তিনটি বেশি উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর।
নতুন বলে রান আটকানোর ক্ষেত্রেও তাঁর পরিসংখ্যান নজরকাড়া। IPL-এর প্রথম ছয় ওভারে বোলিং করে চার মরশুমে মোট ২২৫ রান বাঁচিয়েছেন তিনি। এই হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিরাজের চেয়ে ৭৯ রান বেশি বাঁচিয়েছেন ভুবনেশ্বর। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ওভার প্রতি ৭.৫১ রান। এই সময়ে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে শুধু জশপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah) তাঁর চেয়ে কম রান দিয়েছেন।
ভুবনেশ্বরের বোলিংয়ের বিশেষত্ব হলো, শুরুতে ব্যাটারদের রান তোলার সুযোগ কম দেন তিনি। প্রথম দুই ওভারে তাঁর ইকোনমি রেট ৬.১০, যেখানে ভারতীয় পেসারদের গড় ইকোনমি রেট ৭.৩৮। তাঁর প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বল থেকে রান নিতে পারেননি ব্যাটাররা। অর্থাৎ, শুরুতেই চাপ তৈরি করেন ভুবনেশ্বর। তার পর সেই চাপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নেন।
২০২৬ সালের IPL বদলে দিল ছবিটা
২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের IPL-এ রান বাঁচানোর নিরিখে ভুবনেশ্বর ধারাবাহিক ভাবে ভালো পারফর্ম করলেও উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব কিছুটা কম ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের মরশুমে ছবিটা বদলে যায়। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে নতুন বলে ১৭টি উইকেট নেন তিনি। উইকেট পিছু রান দেন মাত্র ১৩.৩৫ এবং ওভার প্রতি রান দেওয়ার হার ছিল ৬.৬৭।
২০২৬ সালের IPL-এ নতুন বলে মোট ১৭৮ রান বাঁচান ভুবনেশ্বর। চার মরশুমে তাঁর মোট রান বাঁচানোর প্রায় ৭৯ শতাংশই এসেছে এই একটি মরশুম থেকে। অর্থাৎ, শুধু রান আটকে রাখা নয়, উইকেট তুলে নিয়েও ম্যাচের উপর প্রভাব ফেলেছেন তিনি। এই পারফরম্যান্সের জোরেই আবার আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিজ্ঞ পেসার।
ভুবনেশ্বরের বোলিংয়ের আরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে। নতুন বলে তাঁর প্রায় চারটি উইকেটের মধ্যে একটি আসে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ভারতীয় পেসারদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ১২.৯ শতাংশ, সেখানে ভুবনেশ্বরের ক্ষেত্রে তা ২৩.৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ব্যাটারদের ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ তুলে দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। প্রথম দুই ওভারে তিনি মূলত রান আটকে চাপ তৈরি করেন, আর তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ ওভারের মধ্যে বেশি উইকেট পান।
বুমরার সঙ্গে জুটি হলে বাড়বে ভারতের শক্তি
মাঝের ওভারগুলিতে ভুবনেশ্বরকে সাধারণত বল করতে দেখা যায় না। IPL-এর গত চার মরশুমে এই সময়ে মাত্র ১৮ ওভার বল করেছেন তিনি। সেই পর্বে প্রত্যাশিত হিসাবের তুলনায় দলকে ১০ রান বেশি খরচ করতে হয়েছে। ফলে নতুন বলে তাঁর দক্ষতা কাজে লাগানোই দলের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারেও ভুবনেশ্বর নির্ভরযোগ্য।
তবে এই সময়ে তাঁর প্রভাব বুমরার তুলনায় কম। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের IPL-এ শেষের ওভারগুলিতে রান বাঁচানোর নিরিখে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ভুবনেশ্বর। ২০২৬ সালে এই পর্বে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষ ভাবে ভালো ছিল। তবে সব মরশুমে একই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি।
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ভুবনেশ্বরের খেলার সম্ভাবনা তাই যথেষ্ট। নতুন বলে ভুবনেশ্বর এবং ইনিংসের পরের দিকে বুমরা— এই জুটি ভারতের বোলিংকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে প্রায় চার বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর ভুবনেশ্বর কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন, সেটাই হবে আসল পরীক্ষা। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় তাঁর বয়স হবে ৩৮ বছর। ফলে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেও ভারতীয় দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।