“সংখ্যালঘু নয়, সবাই সমঅধিকারভোগী বাংলাদেশি”—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ এ দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন এবং নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও ভক্ত-দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর সঙ্গে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা গভীরভাবে জড়িত। এই উৎসব মানুষের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও শ্রদ্ধাবোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্যাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের সংখ্যালঘু না ভেবে সমঅধিকারভোগী বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করবেন এবং এতে কেউ কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
কয়রা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, উপজেলার প্রায় ২০১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, নতুন ভবন নির্মাণ, হাসপাতাল, সুপেয় পানির ট্যাংক স্থাপন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ আনা হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তা প্রমাণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, দলটি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা না করে বরং দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, আবু সাঈদ বিশ্বাস এবং জেলা জাসাসের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সহিদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
