চিনাবাদাম খেতে ভালবাসেন, অথচ গলা শুকিয়ে এলেও জল পান করতে ভয় পান। পাছে গলায় সমস্যা শুরু হয়ে যায়! ছোটবেলায় অনেকেই বাড়ির বড়দের মুখে শুনেছেন, চিনাবাদাম খাওয়ার পর জল খেলে নাকি কাশি হতে পারে, গলা খুসখুস করতে পারে, এমনকি হজমেও সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এই ধারণার পিছনে কতটা বিজ্ঞান রয়েছে?
পুষ্টিবিদদের বক্তব্য, চিনাবাদাম খাওয়ার পর জল পান করলে সর্দি-কাশি হয় বা হজমের সমস্যা হয়, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে চিনাবাদাম খাওয়ার পর কারও কারও গলায় অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু তা বলে যা খুশি বিশ্বাস করা উচিত নয়। বরং সেই সমস্যার কারণ বুঝে নেওয়া জরুরি।
চিনাবাদাম খাওয়ার পর জল পান করলে কী হয়? ছবি: সংগৃহীত
চিনাবাদাম খাওয়ার পর জল পান করলে সর্দি-কাশি হতে পারে, এমন ধারণা বহুদিনের। বিশেষ করে শীতকালে ভাজা চিনাবাদাম খাওয়ার সময়ে এই সতর্কবাণী বেশি শোনা যায়। চিনাবাদামে ফ্যাট থাকে। সেই কারণে অনেকে মনে করেন, চিনাবাদাম খাওয়ার পর জল পান করলে তেল খাদ্যনালিতে জমে গিয়ে গলায় অস্বস্তি বা কাশি তৈরি করতে পারে। কিন্তু জল পান করলে চিনাবাদামের তেল খাদ্যনালিতে জমে যায় না। বরং স্বাভাবিক পরিমাণে জল পান করা শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। তাই শুধু চিনাবাদাম খাওয়ার পর জল পান করাকে সর্দি-কাশির কারণ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
চিনাবাদামে প্রোটিন, ফ্যাট ও ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। এই উপাদানগুলির কারণে চিনাবাদাম খাওয়ার পর পেট ভরা লাগতে পারে। বেশি পরিমাণে খেলে কারও কারও পেটফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তিও হতে পারে। তবে এই সমস্যার জন্য চিনাবাদাম খাওয়ার পর জল পান করাকে দায়ী করার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং জল পান হজমে সাহায্য করে এবং পুষ্টিকর উপাদান দেহে শোষণ করার কাজে লাগে।
আসলে চিনাবাদামে অ্যালার্জি থাকলে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুতর অ্যালার্জির ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। জল পানের সঙ্গে অ্যালার্জিকে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন।
