কালবেলা · আন্তর্জাতিক
রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প
১৭/১০/২০২৬

রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুল্ক কার্যকরের নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন আগে শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত হলো।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত আদেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ছাড় কার্যকর থাকবে। আইন অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি মনে করলে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে জানিয়ে এ ধরনের শুল্ক স্থগিত রাখতে পারেন।
সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে তৈরি আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি কেনে এমন ৫টি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান ছিল। এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইনটিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।
রাশিয়ার বড় দুই জ্বালানি ক্রেতা চীন ও ভারত এ আইনের বিষয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। চীন বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ছাড়া অন্য দেশের ওপর একতরফা কর্তৃত্ব প্রয়োগের বিরোধী তারা। ভারতও সতর্ক করেছিল, অতিরিক্ত শুল্ক দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। তার মতে, এই শুল্ক কার্যকর হলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল।
তবে শুল্ক স্থগিতের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বেয়ার। তার অভিযোগ, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত পুতিনের কাছে নতি স্বীকারের শামিল এবং ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে দুর্বল করছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্পের একটি সমঝোতাও সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই সমঝোতায় রাশিয়ার রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে বিশ্ববাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ট্রাম্প মস্কোর পক্ষ নিচ্ছেন।
সূত্র: শাফাক নিউজ
মূল প্রতিবেদনে যান ↗