কালবেলা · সাধারণ
চট্টগ্রামে আগুনে পুড়ল ২০ বসতঘর ও দোকান
১৩/১০/২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০টি বসতঘর, দোকান ও গুদাম পুড়ে গেছে। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বেশ কয়েকটি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের নোমান কলেজ রোডের ক্ষেতচর বাস্তুহারা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর তারা নিজেরাই তা নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা তানজিমা নওশীন রিয়া মনি বলেন, ‘ঘটনার সময় মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। মেয়ের ঘুম ভাঙার পর চারদিকে আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসি। ততক্ষণে দরজায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আর ভেতরে ঢুকতে পারিনি।’
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সৈয়দুর রহমান বলেন, ‘আগুনে কুলিং কর্নার, মুদিদোকান, বসতঘর ও মালামালের গুদাম পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
ইলেকট্রনিকস মিস্ত্রি মো. নয়ন (৪৩) বলেন, ‘আগুন লাগার সময় ঘরে কেউ ছিল না। খবর পেয়ে এসে দেখি দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল, কিছুই বাঁচাতে পারিনি।’
এদিকে লামারবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সাতটি কক্ষ, একটি গুদাম ও চারটি দোকান পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লামারবাজার ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইনস্পেক্টর মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। বিস্তারিত তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ শেষে আগুনের সঠিক সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’
বাকলিয়া বাস্তুহারা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘আগুনে দরিদ্র হকার ও বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কারও নগদ টাকা পুড়ে গেছে, কারও দোকান ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়েছে। অনেকে ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেননি। এলাকার বিত্তবানদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাব। পাশাপাশি মেয়র ও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ভাইকে বিষয়টি জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আবেদন করব।’
তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ ও থানায় ফোন দিয়েছি। এলাকার লোকজন ও সমিতির সদস্যদেরও এগিয়ে আসতে বলেছি। সবাই যে যেভাবে পেরেছেন, আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗