বিয়ের মাত্র আট মাস হয়েছিল। তার মধ্যেই অশান্তি। শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার বধূর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশকর্মী বাবার অভিযোগের মৃতার স্বামী এবং শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার ঘটনা। ধৃত পিতা-পুত্রকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে মেদিনীপুর আদালত।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম স্নেহা চক্রবর্তী। বয়স ২৫ বছর। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর সদর ব্লকের যমুনাবালি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সকলে দাবি করেন স্নেহা আত্মহত্যা করেছেন। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। এর মধ্যে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে স্নেহার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।
যুবতীর বাপের বাড়ি মেদিনীপুর শহরেই। তাঁর বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী পুলিশে চাকরি করেন। মৃতার বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়ের বিয়ে হয়েছিল আট মাস আগে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচারিত হচ্ছিলেন মেয়ে। জামাই রণদীপ জানা এবং বেয়াই রতন জানার দিকে আঙুল তোলেন তিনি।
ধ্রুব জানিয়েছেন, জামাইয়ের ব্যবসায়ী পরিবার। বালি এবং লরির ব্যবসা। যদিও পণে তাঁরা মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরে বিএমডব্লু-র বাইক কিনবেন বলে গোঁ ধরেন জামাই। মেয়ের মাধ্যমে তাঁর কাছে টাকা চান জামাই। মেয়ে তাতে রাজি হননি। ওই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। তার পর থেকে স্ত্রীর উপর অত্যাচার করতেন রণদীপ। ধ্রুব দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। পণ না পেয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। ওই পুলিশকর্মী বলেন, ‘‘মেয়ের বিয়ের পর থেকে ওদের সংসারে অশান্তি চলছিল। সম্প্রতি বিএমডব্লু গাড়ি কেনা নিয়ে বরের সঙ্গে বচসা হয়। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানাব।’’
