Published on
:
3 min read
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (UEFA Champions League) বুধবার (২১ অক্টোবর) গোলের লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে (Barcelona) ৪-২ গোলে হারাল প্যারিস সাঁ জামাঁ (Paris Saint-Germain)। পার্ক দে প্রাঁসে (Parc des Princes) দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচ জুড়ে তৈরি হলa একের পর এক গোলের সুযোগ। গোটা ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৪০টি শট নিল। কখনও বার্সেলোনা দাপট দেখাল, কখনও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল PSG। শেষ পর্যন্ত বার্সার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করল ফরাসি ক্লাব। PSG-র জয়ে বড় ভূমিকা নিলেন দেজ়িরে দুয়ে (Desire Doue)। তবে তীব্র গতির এই ম্যাচে চোটের কারণে দুই দলের চার ফুটবলারকে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় উদ্বেগও বাড়ল।
প্রথমার্ধে দু’দলই আক্রমণের ঝড় তোলে। তবে শুরুর দিকে ফাইনাল পাস দিতে বারবার ব্যর্থ হয় বার্সেলোনা। অন্য দিকে, PSG একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বার্সার গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়া (Joan Garcia) বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন। মাঝমাঠে পেদ্রি (Pedri) বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বার্সেলোনার আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন। কিন্তু অ্যান্টনি গর্ডন (Anthony Gordon), রাফিনিয়া (Raphinha) এবং লামিনে ইয়ামালের (Lamine Yamal) মধ্যে বোঝাপড়ায় ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে গর্ডন বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। গোলের সুযোগ কাজে লাগানো কিংবা সতীর্থদের জন্য বিপজ্জনক পাস বাড়ানো— কোনও ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের মুখ খোলে PSG। ডান পায়ে বল নিয়ে ভিতরের দিকে ঢুকে বার্সেলোনার দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে নিচু শটে গোল করেন দেজ়িরে দুয়ে। এ বার আর বল আটকাতে পারেননি গার্সিয়া। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় PSG। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দ্রুত ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। একের পর এক পাসে PSG-র রক্ষণ ভেঙে ৫৫ মিনিটে সমতা ফেরান জ়াভি এসপার্ট (Xavi Espart)। বক্সের মধ্যে ঢুকে কাছ থেকে জোরালো শটে PSG-র গোলকিপার মাতভেই সাফোনভকে (Matvei Safonov) পরাস্ত করেন এই তরুণ ফুটবলার।
এর পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। কর্নার থেকে হেডে গোল করে PSG-কে ফের এগিয়ে দেন লুকাস হার্নান্দেজ় (Lucas Hernandez)। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। PSG-র বক্সে বল নিয়ে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কাছ থেকে গোল করে ২-২ করেন বার্সেলোনার কিশোর তারকা ইয়ামাল।
শেষ দিকে পরপর দুই গোল, বার্সার প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ
দুই দলই যখন জয়ের জন্য ঝাঁপাচ্ছে, তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় PSG। বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে গোল করেন ভিতিনিয়া (Vitinha)। এর পর দূরের পোস্টে বল পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন ফাবিয়ান রুইজ় (Fabian Ruiz)। পরপর দুই গোলে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় PSG। শেষ দিকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বার্সেলোনা। ম্যাচের তীব্রতা দুই দলের ফুটবলারদের উপরেও প্রভাব ফেলে। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় চার জন ফুটবলারকে। PSG-র উসমান দেম্বেলে (Ousmane Dembele) প্রথমার্ধে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পান। দ্বিতীয়ার্ধে একই ধরনের চোটে মাঠ ছাড়েন দলের অধিনায়ক মারকিনিয়োস (Marquinhos)। বার্সেলোনার দানি ওলমো (Dani Olmo) মাঝমাঠে কাঁধে জোর ধাক্কা খেয়ে অস্বাভাবিক ভাবে পড়ে যান। প্রথমার্ধেই তাঁকে তুলে নিতে হয়। পরে জ়াভি এসপার্টের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে গোড়ালিতে চোট পান PSG-র খভিচা কাভারৎসখেলিয়া (Khvicha Kvaratskhelia)। তাঁকেও মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচের পর বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক (Hansi Flick) দলের ভুলের কথা স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচে আমরা অনেক বেশি ভুল করেছি। বল নিজেদের দখলে রাখার সময়েও ভুল হয়েছে, সহজ পাসেও বল হারিয়েছি। এই ম্যাচটা আমাদের কাছে বড় পরীক্ষা ছিল। আজকের খেলা দেখে বুঝতে পেরেছি, কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে।’ ফ্লিক আরও জানান, শুরুতে বেঞ্চে থাকা রদ্রি রবিবার মরশুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে খেলবেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অন্য ম্যাচে কারা জিতল
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্য ম্যাচে ১৮ বছর বয়সি রিও গুমোহার (Rio Ngumoha) দারুণ পারফরম্যান্সে ঘুরে দাঁড়াল লিভারপুল (Liverpool)। শুরুতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ভিয়ারিয়ালের (Villarreal) জর্জেস মিকাউতাদজ়ে গোল করার সময় লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকের (Virgil van Dijk) ভুল হেডার বড় ভূমিকা নেয়। ভুলের জন্য হাত তুলে ক্ষমাও চান তিনি। পরে রোনাল্ড আরাউহো, ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ফ্লোরিয়ান ভির্ৎসের গোলে ৪-৩ লিভারপুল। গোলগুলির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন গুমোহা।
PSG-র কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City)। এএইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে তারা। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্লিং হাল্যান্ড (Erling Haaland) প্রথম একাদশে ছিলেন না। ফিল ফোডেন (Phil Foden) হ্যাটট্রিক করেন। তাঁর দ্বিতীয় গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। অন্য দিকে, ১০ জনে খেলেও স্টুগার্টের (Stuttgart) বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ (Atletico Madrid)। আতলেতিকোর হয়ে জুলিয়ান আলভারেজ় (Julian Alvarez) সমতা ফেরান। প্রথমে গোল করেছিলেন জেমি লেউয়েলিং (Jamie Leweling)। পরে মর্তেন হুলমানের বিপজ্জনক স্লাইডিং ট্যাকলের কারণে দলের ফুটবলার লালকার্ড দেখায় আতলেতিকো ১০ জনে হয়ে যায়। তবু শেষ পর্যন্ত হার এড়ায় তারা।