সাকিবুল হাছান
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার বছর না পেরোতেই ফের পানিতে তলিয়ে গেছে ফেনীর বিস্তীর্ণ জনপদ। তবে বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ায় এবং রোদের দেখা মেলায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে পানি কমছে এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, ফেনীর ছাগলনাইয়া, সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার কিছু অংশে এখনো পানি থাকলেও অন্যান্য দুই উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে। দুর্গত অঞ্চলে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার ক্ষতচিহ্নও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি এখনও রয়ে গেছে। অনেক এলাকায় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। এরপর এসব এলাকা প্লাবিত হওয়ার পর নতুন করে ছাগলনাইয়া, সদর ও দাগনভূঞার আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ১১২টি গ্রামের লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ আশ্রয় নিলেও এরই মধ্যে ৫ হাজার মানুষ ঘরে ফিরেছেন। দুর্গত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রমে কাজ করছেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, এ বন্যায় ১ হাজারের বেশি মাছের ঘের ও পুকুর এবং ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ৬৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।
ফুলগাজীর উত্তর শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আশরাফ বলেন, “নদীর পাড়ে থাকি বলে প্রতি বছরই এ দুঃখ সইতে হয়। বারবার সব তছনছ হয়ে গেলে আমরা কীভাবে বাঁচব?” পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার জানান, “নদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদরে এখনও কিছুটা পানি বাড়ছে। পানি নেমে গেলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।”
