অনলাইন ডেস্ক
একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছিল বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্য। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুই দলের ১৯ ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে বদলে গেছে সেই চিত্র। সর্বশেষ সাত ওয়ানডের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে।
এর সর্বশেষ উদাহরণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজ। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে মাত্র ১৭২ রানে। ৩৩.৪ ওভারে শেষ হওয়া ইনিংসে ৯৯ রানের বড় জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে।
অথচ ম্যাচের শুরুতে দারুণ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। পেসার তাসকিন আহমেদের প্রথম চার ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ২৪ রানে ৩ উইকেট। সেখান থেকে ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলরের ১৫০ রানের জুটি ম্যাচে ফেরায় জিম্বাবুয়েকে। পরে শেষ ১৪ ওভারে প্রায় ১০০ রান যোগ করে দলটি।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান ৪৭ রান যোগ করেন। এরপর নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের ৩২ রানই ছিল ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। মাঝের ও শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
এই ব্যর্থতায় ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথও কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস চোটের কারণে ম্যাচের আগেই ছিটকে যাওয়ায় তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে খেলেছে দল। বুধবার লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারলে ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি এমনও হতে পারে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তান জিতলে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ও যথেষ্ট হবে না।
ম্যাচ শেষে তাসকিন আহমেদ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকেই বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা বাড়লেও ব্যাটিংয়ে বড় জুটি গড়তে না পারার সমস্যা রয়ে গেছে।
তাসকিন বলেন, ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নিয়ে তাঁর সন্দেহ নেই। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। চাপের মুখে দ্রুত ভেঙে পড়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বড় দল হওয়া কঠিন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ফলাফল বলছে, বাংলাদেশের সমস্যা শুধু একটি ম্যাচের ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। শুরুতে ভালো অবস্থান তৈরি করেও তা ধরে রাখতে না পারা, প্রতিপক্ষের বড় জুটি থামাতে না পারা এবং চাপের মধ্যে ব্যাটিংয়ে ভেঙে পড়া—এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠাই এখন দলের বড় চ্যালেঞ্জ।
