রাজনৈতিক প্রভাব, দখলদারদের মামলা আর ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আট বছর ধরে ঝুলে আছে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ। এতে যানজটের নিত্য ভোগান্তিতে পড়ছেন কুমিল্লা দক্ষিণ, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের যাত্রীরা। ৫৯ কিলোমিটারের মহাসড়কটির চার লেনের সুফল আটকে আছে মাত্র আট কিলোমিটারের জন্য।
জানা গেছে, কুমিল্লা-নোয়াখালীর আঞ্চলিক মহাসড়কটির লাকসাম ও লালমাই উপজেলার আট কিলোমিটার অংশ দুই লেনই রয়ে গেছে। এই জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মহাসড়কের প্রকল্প শেষ করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় যাত্রী ও চালকরা। কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চল, লাকসাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দাদের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র পথ কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। ২০১৮ সালে ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়। আট বছরে তিন দফায় বরাদ্দ ও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি এর কাজ। ৫৯ কিলোমিটার সড়কের আট কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ না করেই ২০২৩ সালে জুনে প্রকল্পের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অসম্পূর্ণ প্রকল্পটি বিগত সরকারের আমলে উদ্বোধনও করা হয়।
এদিকে, কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় লাকসাম পৌর এলাকার দৌলতগঞ্জের ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার, লালমাই উপজেলার শানিচো এলাকার ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং একই উপজেলার লালমাই বাগমারা বাজার এলাকার ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কের অংশ চার লেনে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। মহাসড়কের বাগমারা বাজারের ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কের যানজট যাত্রীদের নিত্যসঙ্গী।
অভিযোগ রয়েছে, অধিগ্রহণ জটিলতায় রাজনৈতিক প্রভাব এবং দখলদারদের মামলায় এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঝুলে থাকার মূল কারণ। যে কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পের আট কিলোমিটার সড়ক এখন যাত্রীদের গলার কাঁটা। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেগা প্রকল্পের সুফল কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারছে না। এ কারণে মহাসড়কের লাকসাম বাজার-শানিচো-বাগমারা এলাকায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। ভূমি মালিকদের দাবি, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে প্রকল্পের কাজ। নির্ধারিত মূল্যে সরকারকে জমি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অবৈধ দখলদারদের মামলায় অধিগ্রহণ জটিলতা ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি কুমিল্লা মো. মফিজ উদ্দিনকে ফোন করে না পাওয়াতে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা ও লালমাই নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক ইতোমধ্যে বেশি অংশ চার লাইনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। লালমাই উপজেলা কিছু অংশে চারলাইনের কাজ হয়নি, সেটি এখনও দুই লাইন অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে কিছু অংশে দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি লাকসাম বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সমাপ্ত হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
