সাধারণ মানুষের রাজ্যের শাসকদল বিজেপি ও এই সরকারের উপর সম্পূর্ণ ভরসা আছে। আগামী কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা ভোটে মানুষ বিজেপির সঙ্গেই থাকবে। আর বিরোধীরা সন্ধ্যাবেলার টক শো ও সোশ্যাল মিডিয়াতে থাকবে। শনিবার হাওড়ায় চোরবাগানের ঘটনায় মৃত বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি। একই সঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘একদিনে এক বছরে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো ৩৪ বছরের নাস্তিক কমিউনিস্ট আর ১৫ বছরের জামাতি তৃণমূলের রাজত্বকে তো আর আমি চেঞ্জ করতে পারবো না, সময় লাগবে।’’
এদিন সালকিয়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মানুষের আমাদের উপর ভরসা আছে সেটা আপনারা ফলতা, রেজিনগর নন্দীগ্রামে দেখতে পেয়েছেন। আগামীদিনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা ভোটেও দেখবেন মানুষ কার সঙ্গে আছেন। আপনাদের ওই সন্ধ্যাবেলার টক শো ও সোশ্যাল মিডিয়াতে ওরা থাকুক আমরা রাস্তায় আছি।’’ এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রত্যেকটা জায়গায় রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন। আমি যদিও স্বাগত বা ইত্যাদিতে এই শোকের মধ্যে অভ্যস্ত নই। কিন্তু মানুষ রাস্তায় দাঁড়াচ্ছেন। নমস্কার, প্রতি নমস্কার করতে হচ্ছে। এই রাস্তাতেও কম লোক নেই। আপনারা আমার সঙ্গে যদি যান তাহলে এই রাস্তাতেও দু’দিকে যা লোক দাঁড়িয়ে আছে। আনা লোক তো নয়, সংগঠিত করা লোক নয়, বিরিয়ানির প্যাকেট দিয়ে কোনও লোককে আনা হয়নি। এমনি মানুষের স্বত:স্ফূর্ততা আছে মানুষের এই সরকারের উপর ভরসা আছে।’’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চেপে সালকিয়ায় বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে যান। বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই, জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া, পুর কমিশনার তেজস্বী রানা সহ হাওড়া জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী বিকাশবাবুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে কালীপুজোতে সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি আরেকটা মিটিং ২৮ তারিখ বিকেলবেলা ৪টের সময় করব। আগামী পুজো সংক্রান্ত এবং বিশেষ করে দেওয়ালি, কালীপুজোয় আতসবাজি সংক্রান্ত। পরিবেশ দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে একটা গাইড লাইন করব। চেষ্টা করব সরকারের যে দায়িত্ব সেটা পালন করার।’’
এদিন ফের একবার চোরবাগান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চোরবাগানে ৩ মাসের মধ্যে সিট রিপোর্ট দেবে। চোরবাগানের ঘটনার পরে দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে যে সাবধানতা নেওয়া হয়েছিলো অতিরিক্ত কলকাতা -সহ তাতে আমাদের একটাও দুর্ঘটনা গোটা রাজ্যে হয়নি। গোটা রাজ্যে এবারে মোট পুজোর সংখ্যা ছিলো ৬৬ হাজার। তার মধ্যে ৫৮ হাজার পুজোকে সরকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেছে। বাকি পুজোগুলো তারা অর্থনেতিক সহযোগিতা নেননি আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে। ৬৬ হাজার পুজোই খুব সুন্দর করে হয়েছে এবং ঘটনাবিহীন ভাবে হয়েছে। রাজ্যটা তো খুব বড়। একটা জায়গাকে কেন্দ্র করে নয়, অতএব লক্ষ লক্ষ পূর্ণার্থী, দর্শক, ভক্ত সব জায়গাতেই নেমেছিল। প্রচুর জনসমাগম হয়েছিল। পুলিশের সংখ্যা খুব কম সেটাও আপনারা জানেন।’’
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ৪৬ হাজার পুলিশ কম রয়েছে রাজ্য পুলিশে। প্রতি ১ লাখে পুলিশের সংখ্যা হলো ১০৫। এনসিসি, সিভিক ভলান্টিয়ার স্বেচ্ছাসেবক সবকিছু দিয়ে সামলানো হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে এই চোরবাগানের দুর্ঘটনা ছাড়া আর কোথাও কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরেরদিনই ভবানীভবন থেকে গোটা রাজ্যজুড়ে সিপি, এসপি, ডিএম দের সঙ্গে আমি, চিফ সেক্রেটারি যে ভার্চুয়াল করেছিলাম তাতে যে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো সবাই সেটা মেনে চলেছে এটা ছটপুজো পর্যন্ত চলবে।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘এটা আমার ১৬টা পরিবার কমপ্লিট হল। কালকে পূর্ব মেদিনীপুরে এক জন আছে রামনগর। প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত শোনার পরে ওটা আমি রামনগরে মিট করবো। করলে পশ্চিমবঙ্গে ১৭ জনেই মিট হলো। বাকি বিহারের মজফফরপুরের ২ জন আছে ওখানে আমি ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবো। আমি মন্ত্রী উমেশ রাইকে পাঠাবো, ২টো চেক নিয়ে। একই পরিবারের ২ জন মারা গেছেন। ওখানে গিয়ে দিয়ে আসবো।’’
