হাঙরের আজব ডিম
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
জলপরির পার্স
-->সমুদ্রের তীরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ যদি ছোট্ট একটি কালচে পার্স চোখে পড়ে, তাহলে অবাক হবে না তো? বস্তুটির চার কোণে রয়েছে সরু শিংয়ের মতো অংশ। দেখতে অনেকটা অদ্ভুত খেলনার মতো হলেও এটি আসলে কোনো পার্স নয়। এটি হাঙরজাতীয় কিছু মাছের ডিমের আবরণ! ইংরেজিতে একে বলা হয় Mermaid’s purse বা জলপরির পার্স।
কেন এমন নাম?
জলপরি হলো রূপকথার এক কাল্পনিক চরিত্র। তার নামের সঙ্গে মিলিয়ে সমুদ্রে পাওয়া এই অদ্ভুত বস্তুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জলপরির পার্স’। দেখতে ছোট্ট থলে বা পার্সের মতো বলেই এমন নাম। তবে এর সঙ্গে জলপরির বাস্তবে কোনো সম্পর্ক নেই।
কোন প্রাণীর ডিম থাকে এতে?
সব হাঙর ডিম পাড়ে না। কিছু হাঙর সরাসরি বাচ্চা জন্ম দেয়। আবার কিছু প্রজাতির হাঙর ডিম পাড়ে। ক্যাটশার্কের কয়েকটি প্রজাতির ডিম এমন আবরণের ভেতরে থাকে। স্কেট নামের হাঙরের আত্মীয় একধরনের সামুদ্রিক মাছের ডিমও দেখতে অনেকটা এমন হয়।
ডিমের আবরণটি কেমন?
জলপরির পার্স সাধারণত কালচে বা বাদামি রঙের হয়। এটি চামড়ার মতো শক্ত ও নমনীয়। এর চার কোণে থাকা লম্বা অংশগুলো সামুদ্রিক শৈবাল বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে থাকতে সাহায্য করে। এতে ঢেউয়ের ধাক্কায় ডিমটি সহজে ভেসে যায় না।
আবরণের ভেতরে কী ঘটে?
এই আবরণের ভেতরে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে ছোট্ট হাঙর বা স্কেট মাছের ভ্রূণ। প্রজাতিভেদে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যথেষ্ট বড় হয়ে গেলে ছোট্ট প্রাণীটি আবরণের একটি ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসে। শুরু হয় তার সমুদ্রজীবন।
সমুদ্রসৈকতে পাওয়া যায় কেন?
ঢেউয়ের সঙ্গে অনেক সময় এই ডিমের আবরণ সমুদ্রের তীরে চলে আসে। ভেতরের প্রাণীটি বেরিয়ে যাওয়ার পর খালি আবরণও বালুর ওপর পড়ে থাকতে পারে। তাই সৈকতে এমন কিছু দেখলে ভালো করে লক্ষ করো। তবে জীবন্ত ডিম বা প্রাণী মনে হলে সেটিকে নাড়াচাড়া না করাই ভালো।
আরও পড়ুন
নাটিকা জগজ্জননী
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
এঁকেছেন মাসুম
-->[মঞ্চে আলোর খেলা। নেপথ্যে শোনা যাবে]
অসুরকুলের রাজা মহিষাসুর। প্রবল তার প্রতাপ। মহাপরাক্রমশালী মহিষাসুরের স্বপ্ন–সে স্বর্গ জয় করবে। দেবতাদের পরাজিত করে হবে স্বর্গের রাজা। স্বপ্নপূরণে হিমালয় চূড়ায় শুরু হলো তার তপস্যা। বড় কঠিন সেই তপস্যা। চঞ্চল হয়ে উঠল প্রকৃতি। সমুদ্রে উঠল ঝড়। প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পর্বতমালা। স্বয়ং ব্রহ্মা এলেন মহিষাসুরের তপস্যা ভাঙাতে। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহিষাসুরকে দিলেন অমরত্বের বর। মাতৃগর্ভে জন্ম হয়নি, এমন নারীর হাতেই হবে তার বিনাশ।
[মঞ্চে মহিষাসুরের প্রবেশ]
মহিষাসুর: হা হা হা ... নারী! অবলা নারী করবে আমার প্রাণসংহার! ... হা হা হা ... অবলা নারী ... এ অসম্ভব! আমি এবার দেবালয় জয় করব। স্বর্গরাজ্য থেকে দেবতাদের করব বিতাড়িত। হা হা হা ... স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল–ত্রিভুবনে হবে অসুর রাজ্যের প্রতিষ্ঠা। সেই রাজ্যের রাজা হব আমি। হা হা হা ... রাজা ... মহারাজা ... হা হা হা...! বিষ্ণু নয়, মহেশ্বর নয়, অন্য কেউ নয়, ত্রিভুবনে আমার পূজা হবে। হা হা হা ... মহিষাসুরের পূজা ... হা হা হা...!!
[হাসতে হাসতে মহিষাসুরের প্রস্থান]
[মঞ্চে আলোর খেলা। নেপথ্যে শোনা যাবে]
বর পেয়ে মহিষাসুরের অত্যাচারে ত্রিলোক অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। যুদ্ধে একে একে দেবতারা পরাজিত হতে লাগলেন। চারদিকে মৃত্যুভয় আর হাহাকার। অসহায় দেবতারা মহেশ্বরের চরণে লুটিয়ে পড়লেন। রক্ষা করুন প্রভু। রক্ষা করুন। দেবতাদের দুর্দশার কারণ শুনে মহেশ্বর ক্রোধে জ্বলে উঠলেন। এত সাহস মহিষাসুরের! মহেশ্বরের দুচোখ থেকে অলৌকিক তেজ বেরিয়ে এল। সব দেবতার তেজঃপুঞ্জ মিলিত হয়ে আলোকিত হলো দশদিক। সেই তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূতা হলেন অপরূপা এক জ্যোতির্ময়ী। তিনি দশভুজা, দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা। আকাশ থেকে পুষ্প বৃষ্টি হলো তার আবির্ভাবে। চারদিকে মঙ্গল শঙ্খের ধ্বনিতে সূচিত হলো অসুরের বিনাশ।
[মঞ্চে অস্ত্র হাতে মা দুর্গার প্রবেশ। তার মুখে মধুর হাসি। নেপথ্যের মধুর হাসির শব্দে চারদিক আলোড়িত হবে। এমন সময় মঞ্চে মহিষাসুরের প্রবেশ ঘটবে। তার চোখে-মুখে কৌতূহল। সে হাসির উৎস খুঁজছে]
মহিষাসুর: কে? কে হাসে এমন করে? দেখছি না কেন? কোথায়? কোথায় সে?
দুর্গা: আমায় চিনতে পারছিস না?
[এবার মহিষাসুর দুর্গাকে দেখতে পারবে। তারা মুখোমুখি হবে]
মহিষাসুর: কে তুই অবলা নারী?
দুর্গা: ওরে মূর্খ মহিষাসুর, তবে শোন। তোকে বধের জন্য দেবতারা আমায় সৃষ্টি করেছেন। আমি এসেছি তোর প্রাণ হরণ করতে।
মহিষাসুর: হা হা হা ...আমার প্রাণ হরণ ... হা হা হা ... তুই করবি আমার প্রাণ হরণ। হা হা হা ...!
দুর্গা: ওরে পাপিষ্ঠ স্মরণ কর। স্মরণ কর ব্রহ্মার সেই বরের কথা।
মহিষাসুর: (একটু চিন্তিত হয়ে) না। এ হতে পারে না। ব্রহ্মার বরে আমি অমর। আমার মৃত্যু নেই। ওরে মায়াবিনী! এখনই তোকে হত্যা করে এ কথা প্রমাণ করব আমি।
দুর্গা: তবে রে মূর্খ! চেষ্টা করে দেখ পারিস কি না।
[দুর্গা ও মহিষাসুরের যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। ভীষণ যুদ্ধ]
মহিষাসুর: ওরে অবলা নারী, সমগ্র দেবতাকুল আমার ভয়ে জীবন নিয়ে পালিয়েছে। আর তুই এসেছিস যুদ্ধ করতে? তোর এত বড় দুঃসাহস! মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ! এখনো সময় আছে আমার পদতলে মাথা নত কর। নইলে তোর হবে অশেষ দুর্গতি।
দুর্গা: দাম্ভিক মহিষাসুর, তবে শোন, আমার থেকেই সব শক্তির উৎপত্তি। আমার মধ্যেই সব শক্তির লয়। তুই মহাপাপি। তোর অত্যাচারে দেবতারা আজ ঘরছাড়া। ত্রিভুবন অশান্তিময়। তোর লোভ, তোর হিংসা, তোর দম্ভই তোকে বিনাশের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এবার পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত হ।
মহিষাসুর: কী? এত তেজ তোর! তবে আয়, এই ত্রিভুবনের মহারাজের সঙ্গে লড়াই কর।
[পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে। এক পর্যায়ে দুর্গা তার ত্রিশূল মহিষাসুরের বুকে বিঁধিয়ে দেবে। মহিষাসুর মাটিতে লুটিয়ে পড়বে]
মহিষাসুর: হে দেবী। তুমি প্রসন্ন হও। রক্ষা করো। তুমি ঠিকই বলেছিলে, আমার কারণেই এ পৃথিবী আজ অশান্তিময়। আমি ভুল করেছি মা। তুমি তো জগজ্জননী। সন্তানের এ ভুল ক্ষমা করো। ত্রিভুবনে আবার শান্তি ফিরে আসুক। তোমাকে প্রণাম। শত কোটি প্রণাম।
দুর্গা: দুষ্টের দমন করে, জগতের দুর্গতি দূর করতে আমি ফিরে ফিরে আসি কালে মহাকালে। আমিই জগজ্জননী। আমিই দুর্গতিনাশিনী।
আরও পড়ুন
রেলস্টেশনের রহস্যঘণ্টা
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
এঁকেছেন মাসুম
-->রিফাতের বয়স ৯ বছর। সে কড়া রোদে হাঁটতে হাঁটতে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায়। এক হাতে তার একটা ছোট্ট ক্যানভাস ব্যাগ, তাতে একটা খাতাপত্র, কিছু পেনসিল, আর একটা খেলনা ট্রেন। অন্য হাতে ধরা রংচঙে ছাতা। কিন্তু ছাতাটা খোলা না, কারণ রিফাত রোদের ভয় পায় না। সে চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখে, লাল রঙের লোকাল ট্রেনটা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে চলে যাচ্ছে। তার কান তাকিয়ে থাকে প্ল্যাটফর্মের প্রান্তে ঝুলে থাকা পুরোনো ঘণ্টার দিকে।
প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় ঘণ্টাটা বাজে। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে। তবে সেটার শব্দ আলাদা। ধাতব নয়, বরং যেন কাচের মতো স্বচ্ছ একটা আওয়াজ–চ্রিং... চ্রিং… চ্রিং…। রিফাত ভাবে, এই ঘণ্টার আওয়াজ কেন এমন? কেন বিকেল ৪টা ৫ মিনিটেই বাজে? সকাল নয়, দুপুর নয় ঠিক এ সময়েই কেন?
রিফাতের মা স্টেশনের ক্যান্টিনে কাজ করেন। একপাশে চায়ের বয়, অন্য পাশে মোটা গলায় কথা বলা মাসুদ কাকা, আর মাঝে রিফাতের মা। চোখে চশমা, মুখে ক্লান্তি। কাজ শেষ হলে রিফাত তাকে নিয়ে বাসায় ফেরে। কিন্তু রিফাতের মন পড়ে থাকে ঘণ্টার কাছে। প্রতিদিন।
এক দিন, বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে রিফাত অদ্ভুত কিছু দেখল। ট্রেন থেমেছে ঠিকমতো। মানুষ উঠছে-নামছে। হঠাৎ একটা বাচ্চা ছেলে, আনুমানিক সাত-আট বছরের। নীল শার্ট পরে, খালি পায়ে, চুল এলোমেলো। প্ল্যাটফর্মের একেবারে প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। সে তাকিয়ে আছে ঘণ্টার দিকে। তার পেছনে কেউ নেই। সামনে কেউ নেই। কেউ যেন তাকে দেখতে পাচ্ছে না। শুধু রিফাতই তাকিয়ে আছে তার দিকে। ছেলেটা ধীরে ধীরে ঘণ্টার নিচে গিয়ে দাঁড়াল, আর এক ঝটকায় মিলিয়ে গেল বাতাসে। রিফাত চিৎকার করতে গেল, কিন্তু কেউ শুনল না।
পরের দিন থেকে রিফাত নতুন একটি কাজ শুরু করল। সে ঘণ্টা বাজার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। সে জানে, কিছু একটা আছে এই ঘণ্টার মধ্যে। কিছু একটা হারিয়ে যাওয়ার গল্প।
সে তার খাতায় নোট নিতে শুরু করল, ‘আজ ৪টা ৫। ট্রেন থামল। সেই ছেলেটা আবার এসেছে। একই রকম মুখ, খালি পা, নীল জামা। কেউ তাকাচ্ছে না। কেউ দেখছে না। সে ঘণ্টার নিচে গিয়ে দাঁড়াল, আমাকে দেখল না। কিন্তু আজ তার মুখে হাসি ছিল। খুব মায়াবী সে হাসি।’
রিফাত ভাবল, সে একা নয়। কেউ না কেউ জানে এই ছেলেটা কে। স্টেশন মাস্টারকে জিজ্ঞেস করল, কাকা, আমাদের ঘণ্টা কি অনেক পুরোনো?
স্টেশন মাস্টার চোখ কুঁচকে তাকালেন, হ্যাঁ রে। এই ঘণ্টা এখানে আছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। বল তো, কৌতূহলটা কীসের?
আপনি কি জানেন, ঘণ্টা বাজার সময় একজন বাচ্চা আসে এখানে?
মাস্টার হেসে বললেন, তুই স্বপ্ন দেখিস তাই না?
রিফাত কিছু বলল না। পরের শুক্রবার, রিফাত ক্যান্টিনের বুথ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঘণ্টার নিচে দাঁড়াল। ৪টা ৫ বাজতেই আবার সেই ছেলেটা এল। এবার সে সরাসরি রিফাতের চোখে তাকাল। চোখ দুটি পানিতে টলমল করছে, কিন্তু মুখে মিষ্টি হাসি।
তুমি আমাকে দেখতে পারো?
রিফাত ধীরে মাথা নাড়ে।
তুমি কি জানো, আমি কোথায় গেছি?
না... কিন্তু আমি খুঁজতে চাই।
ছেলেটা তখন বলল, আমার নাম রাহাত। আমি হারিয়ে গেছি ১৩ বছর আগে। এই স্টেশন থেকে। আমি মাকে খুঁজতে গিয়েছিলাম, ট্রেন চলছিল, আমি একা ছিলাম। তারপর… কিছু মনে নেই। শুধু এই ঘণ্টার আওয়াজ মনে পড়ে। আমি এখানেই রয়ে গেছি।
রিফাতের চোখে জল চলে এল।
তোমার মা... এখন কোথায়?
জানি না। খুঁজে দাও না আমাকে?
রিফাতের মাথায় তখন শুধু একটাই লক্ষ্য, রাহাতকে তার মায়ের কাছে ফেরত পাঠানো। সে মায়ের কাছে গিয়ে সব বলে। মা প্রথমে হেসে উড়িয়ে দেয়, কিন্তু রিফাতের গম্ভীর চোখ দেখে থেমে যায়। বলল, একটা কাজ কর। স্টেশনের পুরোনো রেকর্ড খাতাগুলো দেখ। যদি রাহাত নামের কারও নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট থাকে।
রিফাত কাগজপত্র ঘেঁটে এক দিন পেয়ে গেল, ‘২০১১ সালের ১৭ মার্চ, বিকেল ৪টা ৫ মিনিট। ৮ বছর বয়সী রাহাত নিখোঁজ। নীল জামা পরিহিত, প্ল্যাটফর্ম নম্বর ২, ঢাকার একটি লোকাল ট্রেন।’
রিফাত চোখের পানি ফেলল। ঠিক সেই সময়, সেই জায়গা! পরদিন বিকেল। রিফাত আবার দাঁড়িয়ে গেল ঘণ্টার নিচে। ঘণ্টা বাজল, ছেলেটা এল, এবার তার চোখে জল। রিফাত বলল, তোমার মাকে খুঁজে পেয়েছি। এখন তুমি যেতে পারো।
রাহাত হাসল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, ধন্যবাদ রিফাত। তুমি আমার বন্ধু ছিলে। বিদায়।
সে মিলিয়ে গেল। আর কোনো দিন বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে সেই ছেলেটা এল না। ঘণ্টার আওয়াজটাও বদলে গেল। এখন আর সেটা কাচের মতো স্বচ্ছ নয়। ধাতব, শক্ত, বাস্তব। রিফাত জানে, একটি আত্মা মুক্তি পেয়েছে। এক বন্ধু তার মাকে ফিরে পেয়েছে। আর রেলস্টেশনের সেই পুরোনো ঘণ্টা? সে এখন রিফাতকে দেখে একটু ঝুঁকে পড়ে, যেন একটা নিঃশব্দ ধন্যবাদ জানায়।
আরও পড়ুন
মজার ছড়া আমাদের গ্রাম
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ছবি এআই
-->আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।
মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি,
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশ ঝাড় যেন,
মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।
সকালে সোনার রবি পুব দিকে ওঠে,
পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফোটে।
আরও পড়ুন
হারাধনের দশটি ছেলে
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
হারাধনের দশটি ছেলে
ঘোরে পাড়াময়,
একটি কোথা হারিয়ে গেল
রইল বাকি নয়।
হারাধনের নয়টি ছেলে
কাটতে গেল কাঠ,
একটি কেটে দু’খান হল
রইল বাকি আট।
হারাধনের আটটি ছেলে
বসলো খেতে ভাত,
একটির পেট ফেটে গেল
রইল বাকি সাত।
হারাধনের সাতটি ছেলে
গেল জলাশয়,
একটি সেথা ডুবে ম’ল
রইল বাকি ছয়।
হারাধনের ছয়টি ছেলে
চ’ড়তে গেল গাছ,
একটি ম’ল পিছলে পড়ে
রইল বাকি পাঁচ।
হারাধনের পাঁচটি ছেলে
গেল বনের ধার,
একটি গেল বাঘের পেটে
রইল বাকি চার।
হারাধনের চারটি ছেলে
নাচে ধিন ধিন,
একটি ম’ল আছাড় খেয়ে
রইল বাকি তিন।
হারাধনের তিনটি ছেলে
ধরতে গেল রুই,
একটি খেলো বোয়াল মাছে
রইল বাকি দুই।
হারাধনের দুইটি ছেলে
মারতে গেল ভেক,
একটি ম’ল সাপের বিষে
রইল বাকি এক।
হারাধনের একটি ছেলে
কাঁদে ভেউ ভেউ,
মনের দুঃখে বনে গেল
রইল না আর কেউ।
