সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় দুদকের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।
চার্জশিটে আনিসুল হকের নামে-বেনামে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবীর চার্জশিট গ্রহণ করেন। এ মামলার অপর তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল
দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।চার্জশিটে বলা হয়েছে, আনিসুল হকের বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর নিট গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। অন্যদিকে, তার নামে ও বেনামে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সে হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।
দুদকের তদন্তে আনিসুল হকের নিজের নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।তাদের মধ্যে জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।চার্জশিট অনুযায়ী, জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ওই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে।এ ছাড়া আনিসুল হক এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
The post আনিসুল হক সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট দাখিল appeared first on Dhaka Protidin.
