Published on
:
1 min read
মোহিত দাস, বাঁকুড়া
বাংলার তাঁতশিল্প সময়ের সঙ্গে হয়েছে দুর্বল। তার পরেও বড়জোড়ায় তাঁতিদের বসতি আছে পোড়েলপাড়া, মিতপাড়া, নন্দীপাড়া, নামোপাড়ায়। এর মধ্যে নামোপাড়া ছাড়া বাকি সব পাড়ায় দুর্গাপুজো হয়। কিন্তু তন্তুবায় সমাজের কাছে নেই তাঁত নিয়ে কোনও আকর্ষণ।
একটা সময় পর্যন্ত যাঁরা এই পেশায় যুক্ত ছিলেন, তাঁরা পেশা বদলে হয়েছেন দোকানি, কারখানার শ্রমিক অথবা ট্রেনের নিত্য হকার। তার পরেও ঐতিহ্য বহন করে চলা দুর্গাপুজোকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁদের চেষ্টার অন্ত নেই। এই তাঁতি সম্প্রদায়ের তিনটি দুর্গাপুজো এখনও চলছে।
মা মহামায়া মন্দিরের ম্যানেজার নিখিল পোড়েল জানাচ্ছেন, একসময়ে যন্ত্রদানবের কাছে হার মানল হস্তচালিত তাঁত। বড়জোড়া থেকে উঠে গেল তাঁতশিল্প। যে তন্তুবায় সমিতি তৈরি হয়েছিল, তার কাজও বন্ধ হয়ে গেল। শিল্পীরা পুরোনো পেশা ছেড়ে বেছে নিলেন অন্য পেশাকে। তাঁতিদের এক সময়ের সেই সমৃদ্ধ ইতিহাসের গল্প বলে পারিবারিক দুর্গোৎসবগুলি।
বড়জোড়া গ্রামের সবচেয়ে মান্য দেবী মা মহামায়া। পোড়েল পরিবারের এই পুজো ধুমধাম করে হয়। পোড়েলদের পূর্বপুরুষ পঞ্চানন তন্তুবায় ১৮০৫–এ টেরাকোটার বিষ্ণুমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পুজোর চার দিন মহামায়ার পুজো হলেও সারা বছর একটি পাথরের প্রতিমার পুজো হয়। একটি পাথরের মাঝখানে সিংহের প্রতিকৃতি খোদাই করা আছে। বলা হয়, সাহারজোড়ার জঙ্গল থেকে এই পাথর আনা হয়েছিল।
মিতপাড়া ও নন্দীপাড়াতেও পারিবারিক দুর্গাপুজো হয়। মিতপাড়ার মন্দির প্রাচীন খিলানবিশিষ্ট দালান রীতির। আনুমানিক ২০০-৩০০ বছর আগের সাবেকি রীতিতে হয় পুজো। নন্দীপাড়ার দুর্গামন্দির আগে খড়ের চালের একটি মাটির মন্দির ছিল। এক বার রাসের সময়ে হ্যাজাকের আগুনে মন্দির ভস্মীভূত হয়ে যায়। সেখানে তৈরি হয় পাকা দালান। নন্দীপাড়ার বাসিন্দাদের মতে, আনুমানিক ৩০০ বছর আগে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল।
এই মুহূর্তে এই তিন পাড়ার দুর্গাপুজোর খরচ চালানোও কঠিন হয়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী হয় দেবীর আরাধনা। হঠাৎ করে স্মৃতিতে ঝলসে ওঠে তাঁতশিল্পের অতীত গরিমার খণ্ডচিত্র।