রাজ্যে পালাবদলের পরে শিল্পের জোয়ার আসতে শুরু করেছে। শিল্পপতিরা বাংলায় বিনিয়োগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করছেন। সেই আবহে চতুর্থীতে বাংলায় শিল্পে নয়া লগ্নি। হলদি নদীর পাড়ে বিনিয়োগ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু হলদিয়ায় নতুন ফেনল প্ল্যান্টের উদ্বোধন করলেন। ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে চলেছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড।
এদিন দুপুরের আগেই হলদিয়া পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং, মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল-সহ বিশিষ্টরা। মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্লান্ট ঘুরে দেখেন। হলদিয়ায় পৌঁছে শুভেন্দু আরতিও করেন। এরপর ফিতে কেটে, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শুভেন্দু অধিকারী ওই প্লান্টের উদ্বোধন করলেন। এই বিনিয়োগে হলদিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে। সেই কথা মনে করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যে শিল্পের জোয়ার কেউ আটকাতে পারবে না। ডবল ইঞ্জিনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এবার সামনে এগিয়ে যাবে। রাজ্যে আরও শিল্পের বিনিয়োগ হবে আগামী দিনে। সেই ইঙ্গিতও আরও একবার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্লান্ট কাজ করলে হলদিয়া পেট্রো কেমিক্যালে উৎপাদন বাড়বে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন প্রকল্পের আওতায় ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানা আরও সম্প্রসারিত হবে। ৩৪৫ কেটিপিএ বা কিলোটন পার অ্যানাম ফেনল ও ২১৫ কেটিপিএ অ্যাসিটোন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এই প্রকল্প মূলত রাজ্যের মধ্যে সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। উচ্চগুণমান সম্পন্ন রাসায়নিক দ্রব্য কমাবে পরনির্ভরশীলতা।
হলদিয়া কর্তৃপক্ষের আশা, রাসায়নিক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের উৎপাদন ক্ষমতা এবং সরবরাহের ছবি স্পষ্ট করা। পাশাপাশি, পূর্ব ভারতের রাসায়নিক বৈচিত্র্য আরও বাড়িয়ে তোলা ও সর্বোপরি রাসায়নিক ক্ষেত্রে অন্য দেশের প্রতি ভারতের নির্ভরতা কমানো। এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে হলদিয়া পেট্রো কেমিক্যালের আশপাশে বহু অনুসারী শিল্প গড়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, বদলের বাংলায় হলদিয়া নতুন করে সেজে উঠবে। পেট্রো কেমিক্যাল ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছেন সকলে।
