সৌদি যুবরাজ – আমিরাত – নেতানিয়াহুর ২০০ কোটি ডলারের গোপন লেনদেন
ডেইলি সিলেট ডট কম :: প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ন | ৮:৪৭ অপরাহ্ন
| ০
ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের তিন প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা—সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার এক গোপন ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের নতুন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস’-এর একটি অংশ সম্প্রতি মার্কিন ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। মূলত ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এক রুশ হ্যাকারের সহায়তায় জ্যারেড কুশনারের আইফোনের স্ক্রিনে নজরদারি চালানোর সুযোগ পায় এবং সেখান থেকেই গোয়েন্দারা কুশনারের গোপন ব্যাংকিং কার্যক্রম ও নথিপত্র হাতে পান।
উদ্ধার করা তথ্যানুসারে, ইউএই-এর ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে ‘আলফা’ নামে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে প্রভাবিত করার জন্য প্রায় ৭৫ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছিল। আজারবাইজানের একটি ব্যাংকের গোপন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রিয়াল ও দিরহামকে মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে এই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সামরিক সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থার আড়ালে পরিচালিত এই ফান্ডের অন্যতম গোপন স্বাক্ষরকারী ছিলেন স্বয়ং কুশনার।
পরবর্তীতে আমিরাত ও সৌদি নেতৃত্ব ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং কুশনারের মধ্যস্থতায় নতুন মধ্যপ্রাচ্য রূপরেখা তৈরি করতে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের একটি যৌথ তহবিল গড়ে তোলে। এর অংশ হিসেবে আজারবাইজান হয়ে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ‘বেটা’ নামক আরেকটি গোপন অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০০ কোটি ডলার পাঠানো হয়। তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সার্বিক নজরদারিতে অ্যাকাউন্টটি পরিচালিত হতো এবং পরবর্তীতে এই অর্থ সাইপ্রাসের বিভিন্ন ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিনিময়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ, সৌদি যুবরাজের ক্ষমতা সুসংহত করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করাই ছিল এই লেনদেনের মূল উদ্দেশ্য।
মার্কিন আইন ও আইআরএস-এর নিয়ম অনুযায়ী সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুশনারের কোনো বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার থাকলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক ছিল। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন অননুমোদিত বিদেশি ফান্ডের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করা ফেডারেল ঘুষ ও বৈদেশিক প্রতিনিধি আইনের চরম লঙ্ঘন হতে পারে। তবে এসব অভিযোগ এক বাক্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যারেড কুশনার। কুশনারের আইনজীবী জানান, বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব কখনো ছিল না এবং তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্টের অনুমতি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ মেনেই সব কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন
- ফেইসবুক
- টুইটার
- গুগল প্লাস
- ইমেইল
সংবাদটি শেয়ার করুন:
