সংবাদ · রাজনীতি
সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী
১২/১০/২০২৬

ধর্মীয় পরিচয়ে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তার প্রধান দায়িত্ব।সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দুর্গাপূর্জা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বিশেষ করে পূজার ছুটি বৃদ্ধি এবং অনুদান বাড়ানোর সিদ্ধান্তে তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয় যে আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাবা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান; সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশ নিয়েছেন।তারেক রহমান বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতিত হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।’মানবিক ও নাগরিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ তাআলা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তারা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। বর্তমানে তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। তারা আরও বলেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় যে ভুল করেনি, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তার প্রমাণ দিচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তারা।সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।এ সময় ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗