Published on
:
3 min read
নবরাত্রিতে গরবার জন্য বহু জায়গায় পাস বিক্রি করা হয়। নাম করা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলি এ ধরনের হাই-প্রোফাইল নবরাত্রি ইভেন্টের আয়োজনও করে। এ রকমই এক ইভেন্ট ফার্মের নাম, লোগো ও কিউআর কোড ব্যবহার করে প্রতারণা চলছে আহমেদাবাদে। গুজরাটের আহমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ বড়সড় জালিয়াতির মামলা রুজু করেছে।
আমেদাবাদে নবরাত্রি উৎসবের জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের নাম করে ভুয়ো অনলাইন পাস ও টিকিট বিক্রির অভিযোগে বড়সড় প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে সাইবার ক্রাইম পুলিশ। একটি বেসরকারি সংস্থার ৪১ বছর বয়সি এক ম্যানেজারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, সংস্থার জনপ্রিয় নবরাত্রি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা।
এক নজরে
আহমেদাবাদে গরবার নামে ভুয়ো অনলাইন পাস বিক্রির অভিযোগ।
আসল পাসের মূল্য ছিল ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা।
সেই টাকা অনেকটা কমিয়ে টিকিট বিক্রি।
ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল, নকল ইমেল, QR কোড ব্যবহার।
সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।
পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৯ অগস্ট থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রতারণা চলে। ‘veer.rajjputtt’ নামে একটি ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল তৈরি করে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পরিচয় নকল করে প্রতারকরা। পাশাপাশি, সংস্থার আসল ডোমেনের মতো দেখতে একটি ভুয়ো ইমেল ঠিকানাও তৈরি করা হয়। মোবাইল নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ছিল ৮০৮।
অভিযোগ, ওই গরবার অনুষ্ঠানের আসল নাম, লোগো ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করে টিকিটে বিপুল ছাড়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের পাসের আসল দাম ছিল ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা। সেই পাসগুলি অনেক কম দামে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়।
প্রতারকদের দেওয়া ভুয়ো অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার পরে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো নকল QR কোড এবং ভুয়ো কনফার্মেশন ইমেল। প্রথম দেখায় সেগুলিকে আসল বলেই মনে হতো। তবে কয়েকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা সরাসরি অনুষ্ঠানের আসল আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করেন। এর পরেই সামনে আসে প্রতারণার ঘটনা। সংস্থার পরিচয় ও ব্র্যান্ডিংয়ের অপব্যবহার করে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর বিষয়টি জানতে পেরে সংস্থার প্রতিনিধিরা দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্তের পরে আমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ পদক্ষেপ করে। আমেদাবাদের সাইবার ক্রাইম বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (DCP) ড. লাভিনা সিনহা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, ‘কোনও অচেনা ব্যক্তি বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে পাস কিনবেন না। সাইবার অপরাধ ও প্রতারণা এড়াতে শুধুমাত্র অনুষ্ঠানের সরকারি লিঙ্ক এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই টাকা জমা দিন।’
পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কোনও সন্দেহজনক লিঙ্ক, ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা প্রতারণামূলক টিকিট বিক্রির সন্ধান পেলে দ্রুত অভিযোগ জানাতে হবে। সাইবার অপরাধের শিকার হলে বা এ ধরনের প্রতারণার খোঁজ পেলে ১৯৩০ নম্বরে সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি, নিকটবর্তী থানাতেও অভিযোগ জানানো যাবে।
উৎসবের মরশুমে অনলাইন টিকিট বা পাস কেনার আগে সতর্ক থাকার এবং শুধুমাত্র সরকারি মাধ্যম ব্যবহার করার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
FAQs
১. কী ভাবে প্রতারণা?
জনপ্রিয় গরবা অনুষ্ঠানের নাম, লোগো ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করে ভুয়ো পাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
২. প্রতারকরা কী ভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলেছিল?
অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁদের নকল QR কোড ও ভুয়ো কনফার্মেশন ইমেল পাঠানো হত।
৩. কী ভাবে বুঝবেন গরবার পাস আসল না নকল?
অচেনা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের অফারে ভরসা করবেন না। অনুষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইট বা যাচাই করা লিঙ্ক থেকে পাস কিনুন। সন্দেহ হলে টাকা দেওয়ার আগে সরাসরি আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৪. অনলাইন টিকিট প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন?
সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি, নিকটবর্তী থানায় অভিযোগ জানান।
৫. এই ঘটনায় কি পুলিশ মামলা রুজু করেছে?
হ্যাঁ। একটি বেসরকারি সংস্থার ম্যানেজারের অভিযোগের ভিত্তিতে আহমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।