দেশজুড়ে বিজয়া দশমী বা দশেরা মানেই রাবণের কুশপুতুল দহন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শ্রীরামচন্দ্রের জয়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হয় এই উৎসব। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের কানপুরে রয়েছে এমন এক মন্দির, যেখানে দশেরার দিন রাবণকে পুড়িয়ে দেওয়ার বদলে তাঁর পুজো করেন ভক্তরা।
বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র একদিনই এই মন্দিরের দরজা খোলা হয়। বাকি সময় বন্ধ থাকে মন্দিরের দরজা, ঢেকে রাখা হয় রাবণের মূর্তিও। কানপুরের শিবালা এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরের নাম ‘দশানন মন্দির’।
রামায়ণে রাবণকে লঙ্কার রাজা এবং শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়। সীতাহরণের কারণে তাঁর পরিণতি হয়েছিল করুণ। কিন্তু রাবণের চরিত্রের অন্য একটি দিকও রয়েছে। তিনি ছিলেন বিদ্বান, শাস্ত্রজ্ঞ এবং ভগবান শিবের পরম ভক্ত। কানপুরের দশানন মন্দিরে রাবণের সেই জ্ঞান ও শিবভক্তিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯০ সালে মহারাজ গুরু প্রসাদ শুক্ল এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। শিবালা এলাকার কৈলাস মন্দির এবং ছিন্নমস্তিকা দেবীর মন্দিরের কাছেই রয়েছে এই দশানন মন্দির। স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাসে, রাবণের শিবভক্তির স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এখানে তাঁর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ রাবণের প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু মূর্তি। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরের ৩৬৪ দিন মূর্তিটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। বিজয়া দশমীর দিন মন্দিরের দরজা খোলার পর মূর্তির আবরণ সরিয়ে শুরু হয় পুজো। রাবণের বন্দিদশার প্রতীক হিসেবেই মূর্তি ঢেকে রাখার এই প্রথা প্রচলিত রয়েছে বলে মনে করা হয়।
দশেরার সকালে এই মন্দিরে ভক্তদের সমাগম হয়। রাবণের মূর্তিতে ফুল দিয়ে সাজানো হয়, জ্বালানো হয় সর্ষের তেলের প্রদীপ। বিশেষ আরতিরও আয়োজন করা হয়। অনেক ভক্ত জ্ঞান, বুদ্ধি ও শক্তি লাভের কামনায় পুজো দেন। বিবাহিত মহিলাদের একাংশ দাম্পত্য জীবনের মঙ্গল কামনায় চালকুমড়ো বা ঝিঙে ফুল নিবেদন করেন বলেও প্রচলিত রয়েছে।
সারা দেশে যখন রাবণ দহনের প্রস্তুতি চলে, তখন এই মন্দিরে শোনা যায় ‘লঙ্কাপতি নরেশ রাবণ কি জয়’ ধ্বনি। সন্ধ্যায় বিশেষ পুজো ও আরতির পর মন্দিরের দরজা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরের বিজয়া দশমীর আগে আর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মন্দির খোলা হয় না।
