ইরানের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি বলেছেন, মাটি খেয়ে বাঁচলেও দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও ছাড়বে না ইরান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ঘণ্টা থেকেই সামরিক বাহিনীর চাহিদা পূরণ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
আখলাঘি বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর চাহিদা পূরণে কাজ করছেন তিনি।
বারবার দেওয়া হুমকির জবাব শুধু কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না উল্লেখ করে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব হুমকিকে আরও বেশি প্রস্তুতি ও কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় রূপান্তর করাই তাঁদের লক্ষ্য।
নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ইরান কাজ করছে বলেও জানান আখলাঘি। তাঁর বক্তব্যে দেশের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির তলদেশের ইন্টারনেট কেবল ধ্বংসের হুমকি
ইরানের অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হামলা চালালে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবলগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আলম নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন।
জাভানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের অবকাঠামোর ক্ষতি করার চেষ্টা করলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান স্বাভাবিকভাবেই তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান সহজেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করতে পারে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবলও রয়েছে। এসব কেবল ধ্বংস করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। একই সঙ্গে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কেবলে বড় ধরনের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
