মুক্তধারা
উৎসব ১৪৩৩
প্রবন্ধ
শারদোৎসব নিষিদ্ধ হলে রবীন্দ্রনাথ কোথায় দাঁড়াবেন
অয়ন মুখোপাধ্যায়
১৭ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
দ্বিতীয় পর্ব
এই ইতিহাসের সামনে আজকের আপত্তিটি বেশ অদ্ভুত। হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে ১৯০৮ সালটি হয়তো নেই। রবীন্দ্রনাথ যখন শারদোৎসব লিখছেন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির তখন জন্মই হয়নি। ফলে শব্দটির মধ্যে লাল পতাকা খুঁজতে গেলে বাংলা অভিধানের সঙ্গে ইতিহাসের ক্যালেন্ডারও নতুন করে ছাপাতে হবে।
বাংলা ভাষা এতদিন এই বিপদ না বুঝেই দিব্যি চলেছে। কেউ বলেন দুর্গাপুজো, কেউ দুর্গোৎসব, কেউ শারদোৎসব। বেশির ভাগ বাঙালি আরও ছোট করে বলেন, ‘পুজো’। “পুজোয় বাড়ি আসছিস তো?”— এই প্রশ্ন শুনে অন্য প্রান্তের মানুষ জানতে চান না, “কোন পুজো?” অভিধান এখানে অর্থ ঠিক করে নি; জীবন ঠিক করে দিয়েছে। ঢাক, অঞ্জলি, কাশফুল, শারদীয়া পত্রিকা, নতুন জামা, নবমীর মাংস, প্যান্ডেল, প্রেম, আড্ডা আর বইয়ের স্টল মিলিয়ে বাঙালি নিজের পুজোর ভাষা নিজেই তৈরি করেছে।
সেখানেই আমাদের সরকারের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আপত্তি। সরকার রাস্তা সামলাক, পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করুক, দমকল নিরাপত্তা দেখুক, প্রশাসন আইন প্রয়োগ করুক। কিন্তু সরকার যদি আমার মুখের শব্দও বেছে দিতে চায়, তখন প্রশ্ন তো আমাকে করতেই হবে — এই অধিকার তাকে কে দিয়েছে? আজ নাম ঠিক করবে, কাল থিম, গান, বই নিয়েও নির্দেশ দেবে — এই আশঙ্কা অমূলক নয়। ক্ষমতা একবার সংস্কৃতির পরীক্ষকের চেয়ারে বসলে তার সীমা নিজে থেকে ছোট হয় না।
আগামীকাল
