এ এক বিরল দৃশ্য! আরবদেশের সমুদ্রতীরের সৌন্দর্য আলাদা। হলুদ বালুতটে ঘন নীল ঢেউ আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য যত দেখা যায়, কিছুতেই যেন আশ মেটে না। সমুদ্রের সেই অপরূপ শোভার মাঝেই আচমকা সম্পূর্ণ অন্য ছবি চোখে পড়ে ওমানবাসীর। মাসকটের কান্তাব সৈকতে দলে দলে ভেসে আসছে বিরল গোলাপি ডলফিন! এ কি সত্যি নাকি স্বপ্ন? নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না পর্যটকরা। তবে সব ধোঁয়াশা কাটিয়ে দেখা গেল সত্যিই গোলাপি ডলফিন ভেসে আসছে সৈকতের দিকে। নিঃসন্দেহে দারুণ এবং বিরলতম দৃশ্য! পর্যটকরা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু পরিবেশপ্রেমী আর সমুদ্র বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এমন গোলাপি ডলফিন ওমানের সমুদ্রে কীভাবে এল? তাঁরা জানাচ্ছেন, এর নেপথ্যে লুকিয়ে ডলফিনদের গভীর শারীরিক সমস্যা।
এর পিছনে রয়েছে আসলে ত্বকের সমস্যা। ত্বকের নির্দিষ্ট স্তরের নিচে থাকা রঞ্জক, যার কারণে প্রাণীদের গাত্রবর্ণ বোঝা যায়, তার সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। ওই ডলফিনগুলির শরীরে সেই রঞ্জকের অভাব প্রবল। তাই সাধারণ ডলফিনদের চেয়ে আলাদা রং হয়েছে তাদের। ঠিক মানুষের ক্ষেত্রে যেমন রঞ্জকের অভাবে শ্বেতি দেখা যায়, এটাও ঠিক তেমনই।
ঠিক কোন সমস্যায় ভুগছে গোলাপি ডলফিনের দল? তা বুঝতে গেলে একটু তাদের সম্পর্কে দু-চারটি তথ্য জানা যাক। গুরুগ্রামের প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. বিনোদ শর্মার গবেষণা জানাচ্ছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চাইনিজ হোয়াইট প্রজাতির একধরনের ডলফিন রয়েছে, জন্মের সময়ে যাদের গায়ের রং স্বাভাবিক কালো-সাদাই থাকে। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তা গোলাপি হয়ে যায়। সেটা তাদের স্বাভাবিক রূপান্তর। এধরনের ডলফিন দেখা যায় ব্রাজিল, পেরু, ভেনেজুয়েলার মতো দক্ষিণ আমেরিকার সমুদ্রে। আমাজন মূলত তাদের বাসস্থান। কিন্তু ওমানের সমুদ্রে ভেসে আসা ডলফিনগুলির গোলাপি বর্ণ এমন সহজাত কিছু নয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর পিছনে রয়েছে আসলে ত্বকের সমস্যা। ত্বকের নির্দিষ্ট স্তরের নিচে থাকা রঞ্জক, যার কারণে প্রাণীদের গাত্রবর্ণ বোঝা যায়, তার সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। ওই ডলফিনগুলির শরীরে সেই রঞ্জকের অভাব প্রবল। তাই সাধারণ ডলফিনদের চেয়ে আলাদা রং হয়েছে তাদের। ঠিক মানুষের ক্ষেত্রে যেমন রঞ্জকের অভাবে শ্বেতি দেখা যায়, এটাও ঠিক তেমনই। তাই তাদের ব্যতিক্রম ও বিরল-দর্শন বলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গোলাপি ডলফিন দেখুন কিন্তু সাবধানে। অন্তত ৫০ মিটার দূর থেকে দেখতে হবে। কোনও জলযান তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে, যাতে কোনওভাবেই তাদের গতিপথে কোনও বাধা না আসে। দরকার হলে জলযানের গতিমুখ বদলে দিতে হবে। মোট কথা, গোলাপি ডলফিনদের কোনওভাবেই বিরক্ত করা যাবে না। তবেই তারা শারীরিক সমস্যা নিয়েও সুস্থ থাকবে।
