

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে সরকার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের পাগলাপীরে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে রংপুরের পাগলাপীরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সৈয়দপুর থেকে রংপুরের সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে দেখা যায় উৎসুক জনতার উপস্থিতি।
এ সময় হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান তারা। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজানের প্রথম দিন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, হিজরি সন চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডারে পবিত্র রমজান মাস প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন এগিয়ে আসে। এ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে রমজান মাস ২০২৬ সালের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) রমজান শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেলে ওই রাতেই আদায় করা হবে প্রথম তারাবির নামাজ। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে রোজা। তবে রমজানের সূচনা নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর, তাই তারিখটি এখনো চূড়ান্ত নয়। রমজান ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ মার্চ (বুধবার) ঈদুল ফিতর হতে পারে। ইসলামী হিজরি বর্ষপঞ্জির নবম মাস পবিত্র রমজান মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়। রমজান মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ধূমপান থেকে বিরত থেকে সিয়াম সাধনা করেন। পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। ২০২৭ সালের রমজানকে সামনে রেখে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মুসলিম দেশগুলো মসজিদ ও জনসেবামূলক কাজের প্রস্তুতি নেবে। পাশাপাশি, ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ঘোষণা করবে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজানের সূচনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখাকেই মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে সকাল ১০টায় তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার সফর ঘিরে রংপুর নগরীসহ পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সৈয়দপুর থেকে রংপুর মহানগর পর্যন্ত সাজসাজ রব ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর মহানগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির (রংপুর ধর্মসভা) পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল, জিয়া সংসদসহ বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সৈয়দপুর থেকে রংপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পুলিশের পাশাপাশি ৫১ বিজিবির অধিনায়কসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত আছেন। জেলা প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বিমানযোগে সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে সামরিক বিমানযোগে রাজশাহী ও পরে চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকায় ফিরবেন।

মুসলমান পূজায় অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: খতিব আব্দুল মালেক
দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও উদারতার নামে কোনো মুসলমান পূজায় অংশ নিলে কিংবা তাকে সঠিক মনে করলে তার ঈমান থাকবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক। সম্প্রতি জুমার বয়ানে তিনি বলেন, ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ এবং একমাত্র আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাওহীদে বিশ্বাসীদের অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন, কিন্তু শিরকের মতো মহাপাপ তিনি কখনো ক্ষমা করবেন না। এই শিরক থেকে মানবজাতিকে বিরত রেখে তাওহীদের ছায়াতলে আনতেই আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে সমস্ত নবী ও রাসূলকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। অমুসলিমদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারের প্রসঙ্গে খতিব বলেন, দেশে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ পরিসরে ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে এবং এতে ইসলামের কোনো আপত্তি নেই। তারা যেন নিরাপদে তাদের পূজা বা উৎসব পালন করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও জরুরি দায়িত্ব। তবে আকিদাগত অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি সতর্ক করেন, কোনো মুসলমান যদি উদারতা বা নমনীয়তার নামে পূজায় শরিক হয় কিংবা পূজাকে সঠিক পথ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বা সমর্থন করে, তবে তার ঈমান থাকবে না। নিরাপত্তা দেওয়া এবং আকিদাগতভাবে শিরককে সমর্থন করা এক বিষয় নয়। বয়ানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মুফতী আব্দুল মালেক বলেন, তায়েফের ময়দানে চরম নির্যাতন ও রক্তাক্ত হওয়ার পরও মহানবী (সা.) জালিমদের ধ্বংস চাননি। তিনি তাদের নিরাপত্তা দিয়েছিলেন এই আশায় যে, তারা ঈমান না আনলেও হয়তো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকবে। মুসলমানদেরও নিজ ধর্মের মূল আকিদা অক্ষুণ্ন রেখে সমাজে শৃঙ্খলা ও ইনসাফ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নাটোরে ফের বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪
নাটোরের বড়াইগ্রামে ফের ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড় এলাকায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাক ও কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুরুলের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেব গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শাহ আলাল মোল্লা (৪৫), কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুনের (৮) পরিচয় জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতরা হলেন শরীয়তপুর জেলার আলমগীর মাতবর (৫৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আব্দুস সালাম (৩৫), শিবগঞ্জের ওয়াহিদ আলী (২২), মাদারীপুর জেলার নাইম তালুকদার (২০), নারগিস আক্তার (৩৫), বরগুনার জেসমিন আক্তার (৩৫), নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার চিরঞ্জিত কুমার (২৫), মান্দা উপজেলার মানিক হোসেন (৩৭), শাহাজুল ইসলাম (৩৬) এবং লক্ষ্মীপুরের রাকিব হোসেন (২৫)। নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন উপপরিচালক আক্তার হামিদ খান বলেন, পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহন ও কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আব্দুস সালাম নামের এক যাত্রী জানান, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল বাসটি। তিনি মাদারীপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য রাত ৯টার দিকে ওই বাসে ওঠেন। তাঁর আসন ছিল পেছনের দিকে। বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ছিলেন। ভেতরে এত যাত্রী ছিলেন যে পা ফেলার জায়গা ছিল না। বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। মাঝেমধ্যে এমনভাবে ব্রেক করত যে তাঁরা আসন থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম ও ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম পরে জানানো হবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার রেজুর মোড়ে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে পাবনা-নাটোর মহাসড়কের সাদিয়া পাম্পের সামনে দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়।

কক্সবাজারে অস্ত্রের মুখে ৫০-৬০ যানবাহনে ডাকাতি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি এলাকার ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে ডাকাতরা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। এসব যানবাহনের বেশির ভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। এ সময় শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগীরা জানান, মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার বলেন, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওসি আরও বলেন, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গভীর বনাঞ্চল এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে মোট কতটি যানবাহনে লুটপাট হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় ডাকাতেরা। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।


