Published on
:
2 min read
অত্যধিক কাজের চাপ। একসঙ্গে চার-পাঁচটি কাজ সামলানোর চাপ। মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে একাধিক চিন্তা। সব মিলিয়ে মানসিক চাপ যেন আর সহ্য করা যাচ্ছে না। অথচ কাজ এড়িয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে কখনও নিজের অজান্তেই মাথার চুল টানতে শুরু করছেন, কখনও আবার অস্থিরতায় মাথা ঝাঁকাচ্ছেন। এমন অভ্যাস অনেকেরই থাকতে পারে। কিন্তু এই অভ্যাসের সঙ্গে মানসিক সমস্যা জড়িয়ে থাকতে পারে, তা কি জানেন?
বার বার নিজের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলার এই প্রবণতার পিছনে থাকতে পারে ‘ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া’ (Trichotillomania) নামের একটি মানসিক সমস্যা। এটি এমন এক ধরনের অবস্থা, যেখানে চুল টানার তাগিদ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই অজান্তে এই অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন। আবার কেউ কেউ মানসিক অস্বস্তি, উদ্বেগ কিংবা একঘেয়েমি কাটাতেও এই কাজ করে।
মানসিক চাপের সঙ্গে চুল টানার সম্পর্ক কী?
মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা আবেগের তীব্রতার সময়ে কারও কারও মধ্যে চুল টানার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। চুল টানার আগে শরীরে চরম অস্বস্তি বা উত্তেজনা অনুভূত হতে পারে। চুল টেনে ফেলার পরে সাময়িক স্বস্তি বা তৃপ্তি মেলে। এই সাময়িক স্বস্তিই বার বার একই আচরণ করার প্রবণতাকে আরও জোরালো করে তোলে। তবে সব ক্ষেত্রে যে মানসিক চাপ থেকেই এই সমস্যা তৈরি হয়, তা নয়।
কোন কোন পরিস্থিতিতে চুল টানার প্রবণতা বাড়তে পারে?
১. নিজের অজান্তে চুল টানা (Reflexive pulling): বই পড়া, টিভি দেখা কিংবা গাড়িতে বসে থাকার মতো তুলনামূলক নিষ্ক্রিয় মুহূর্তে অনেকেই নিজের অজান্তে চুল টানতে থাকেন। একঘেয়েমি, মনোযোগের অভাব কিংবা কোনও কাজে ডুবে থাকার সময়ে কখন এই কাজ করছেন, তা অনেক সময় খেয়াল থাকে না।
২. আবেগের বশে চুল টানা (Intentional pulling): ভয়, হতাশা, রাগ, উদ্বেগ কিংবা একাকিত্বের মতো আবেগের সঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে চুল টানতে শুরু করেন। এর মাধ্যমে সাময়িক মানসিক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে ধীরে ধীরে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এই অভ্যাস থেকে মুক্তির উপায় কী?
কখনও কখনও চুল টানার অভ্যাস ক্রনিক উঠতে পারে। বার বার চুল টানার ফলে মাথার নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে। অভ্যাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাধারণত ‘হ্যাবিট রিভার্সাল ট্রেনিং’-এর মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
