ধর্ম-বর্ণ কিংবা ঐতিহাসিক ভূমিকা বিবেচনা না করে প্রয়োজনের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে এ কার্ড দেওয়া হবে। একেবারে হতদরিদ্রদের দিয়ে শুরু করে ওপরের স্তর পর্যন্ত যাওয়া হবে। যাদের প্রয়োজন, তারা যে ধর্মেরই হোক, ফ্যামিলি কার্ড পাবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজা মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে আমরা কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করছি। আমি অনেক পূজায় এসেছি, অনেক উৎসবে এসেছি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও এখানে পূজা কমিটির সবাইকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। তখন থেকেই উৎসব শুরু হয়েছে। পূজার এত আগে এরকম উৎসবমুখর অবস্থা আমি দেখিনি।’
তিনি বলেন, ‘অনেকের অংশগ্রহণ আমি লক্ষ্য করছি। এখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয়রা-সবাই এবার এই উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটা খুবই লক্ষণীয় বিষয়। সবার অংশগ্রহণ ও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের মধ্য দিয়ে আমরা জাতীয়ভাবে একটি মিলনমেলা লক্ষ্য করছি। এই মিলনমেলায় সবাই যার যার মতো করে অংশগ্রহণ করেছেন।’
সমাজ ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই জাতীয় মিলনমেলা, এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের পেছনে কারণ হলো সমাজে ও রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিগত নির্বাচনের পর আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষণীয়। সেটা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, তা হলো সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সেই কাজ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো জাতি বা রাষ্ট্র পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারলে সেটি আধুনিক রাষ্ট্র হতে পারে না। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে দেখেছি, আধুনিক রাষ্ট্র তো দূরের কথা, মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বিপন্ন হয়েছে, জীবনের সুরক্ষা ছিল না, ভিন্নমতের কোনো সুযোগ ছিল না। সেখানে জাতীয় ঐক্য আসতে পারে না।’
এবারের দুর্গোৎসবে ভিন্নতা দেখার কথা উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এসেছি। এই প্রথমবারের মতো সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এসেছি। এই ঐক্যের পেছনে আপনারা আস্থা রেখেছেন।’
ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কারা পাবে, এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিষয় নেই। একেবারে যারা হতদরিদ্র, তাদের থেকে শুরু করে আমরা ওপরের দিকে যাচ্ছি। কে কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, তার ঐতিহাসিক ভূমিকা কী এসব কিছুই বিবেচ্য নয়। যাদের প্রয়োজন, তারা পাবে, সে যে ধর্মেরই হোক।’
