প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শেষ মুহূর্তে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছিলেন হাজারো চাকরিপ্রার্থী। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। রাতে বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন হলে নিজের দপ্তরেই থাকবেন তিনি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ পরীক্ষা সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ চলছিল। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে। একাদশ গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। গত শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর নতুন করে শুক্রবার পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সে জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সচিবালয়ে থাকবেন আমিনুল হক। রাতে বিশ্রাম বা ঘুমানোর প্রয়োজন হলে নিজের দপ্তরেই অবস্থান করবেন তিনি।
প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ তদারক করতে মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারাও সচিবালয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শুক্রবারের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে পুলিশি পাহারায় প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে। রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এবার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে।
আগের প্রশ্নপত্র ফাঁস, তদন্ত ও গ্রেপ্তার
গত ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ততক্ষণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক প্রার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পরে কমিটির সময় বাড়ানো হয়।
বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, তদন্ত কমিটিকে রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও ফটোকপির কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অপরাধের আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক দলও।
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা বাইরের কেউ - যার বিরুদ্ধেই প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। বৃহস্পতিবার রাতে বাহিনীটির তৃতীয় ইউনিটের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাহিনীটির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।
সানা/আপ্র/১৬/১০/২০২৬
