দিনাজপুরে জামায়াতের রুকন সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং দেশ গঠন ও মানবতার কল্যাণে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরি করছে জামায়াত; তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে রাজপথে থাকার কথাও জানান।
দিনাজপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনে নেতৃত্ব তৈরি করছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং দেশ গঠন ও মানবতার কল্যাণের জন্যই তাদের রাজনীতি। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কল্যাণ সাধন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন। মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে হলে দায়িত্বশীলদের উন্নত নৈতিক চরিত্র, সততা, আদর্শ ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর শহরের নাজমা গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতেও রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হলে সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্বশীল ও রুকনকে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক পরিসর পর্যন্ত ইসলামের আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
দিনাজপুর জেলার সব রুকনকে আত্মগঠন ও দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক রুকনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরতে হবে। উন্নত নৈতিক চরিত্র, উত্তম আচরণ, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংগঠনের সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রত্যেক কর্মীকে ব্যক্তিগত মানোন্নয়ন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের কাছে আদর্শের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে সেই আদর্শের প্রতিফলন ঘটানোই একজন দায়িত্বশীলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আফতাব উদ্দীন মোল্লা, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ এবং সহকারী সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম সৈকত।
সম্মেলনে দিনাজপুর জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ রুকন ও ডেলিগেট এতে অংশ নেন। তাঁদের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি সাংগঠনিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সম্মেলনে বক্তারা সংগঠনের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করা, মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সমাজের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবনে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক দৃঢ়তা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
