ত্বকে হঠাৎ চুলকানি শুরু হলো। এরপর দেখা দিল লালচে, ফুলে ওঠা দাগ। অনেকেই মনে করেন, কোনো খাবার খাওয়ার কারণে, নতুন প্রসাধনী ব্যবহারে কিংবা সাময়িক অ্যালার্জির কারণে এমনটি হচ্ছে। কিন্তু বারবার এমন উপসর্গ দেখা দিলে এবং ছয় সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী স্বতঃস্ফূর্ত আর্টিকারিয়া (সিএসইউ) নামের একটি রোগের লক্ষণ হতে পারে।
সিএসইউ হলো দীর্ঘস্থায়ী আমবাতের (ত্বকের অ্যালার্জিজনিত বা প্রদাহজনিত সমস্যা) একটি ধরন। এ রোগে কোনো নির্দিষ্ট বাহ্যিক কারণ শনাক্ত করা ছাড়াই বারবার চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি দেখা দেয়। কখনো ত্বকের গভীর স্তরে ফোলা বা অ্যাঞ্জিওইডিমাও হতে পারে। সাধারণ অ্যালার্জির মতো নির্দিষ্ট কোনো খাবার, ওষুধ কিংবা পরিবেশগত উপাদানকে সব সময় এর জন্য দায়ী করা যায় না।
চিকিৎসকের মতে, পাঁচটি লক্ষণ দেখে এ রোগের বিষয়ে সতর্ক হওয়া যেতে পারে।
১. বারবার আমবাত দেখা দেওয়া
আমবাত হলে ত্বকের বিভিন্ন স্থানে উঁচু হয়ে থাকা চুলকানিযুক্ত দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। একটি দাগ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিলিয়ে যেতে পারে, কিন্তু শরীরের অন্য স্থানে নতুন দাগ দেখা দিতে পারে। ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এমনটি চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
২. চুলকানিতে ঘুম ও কর্মশক্তি ব্যাহত হওয়া
একটানা চুলকানির কারণে রাতে স্বস্তিতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
৩. আমবাতের সঙ্গে শরীর ফুলে যাওয়া
এ রোগে ত্বকের গভীর স্তরে ফোলা দেখা দিতে পারে, যাকে অ্যাঞ্জিওইডিমা বলা হয়। সাধারণত ঠোঁট, চোখের পাতা, হাত ও পায়ে এ ধরনের ফোলা দেখা যায়। আমবাতের সঙ্গে কিংবা আলাদাভাবেও এমনটি হতে পারে। বারবার অকারণে শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
৪. নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে না পাওয়া
অনেকেই নির্দিষ্ট খাবার, ওষুধ বা ত্বকের প্রসাধনীকে আমবাতের কারণ মনে করেন। কিন্তু সিএসইউর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বাহ্যিক কারণ শনাক্ত করা নাও যেতে পারে। কিছু বিষয় উপসর্গ বাড়াতে পারে, তবে প্রতিবার একই কারণ দায়ী থাকে না।
৫. দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া
ত্বকে দৃশ্যমান দাগ বা ফোলাভাবের কারণে অনেকে সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তিতে ভোগেন। বারবার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় দৈনন্দিন পরিকল্পনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে মানসিক সুস্থতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ছয় সপ্তাহ ধরে বারবার আমবাত দেখা দিলে একে সাময়িক অ্যালার্জি ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। লক্ষণগুলোর ধরন বুঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস