বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি) বিকাশ, সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্র শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় বিমরাডের সেমিনার হলে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ ২০২৬-এর আওতায় ‘Enabling a Sustainable Blue Economy in the Bay of Bengal (Indian Ocean)’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার। এ ছাড়া বিমরাডের চেয়ারম্যান, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। এতে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সমুদ্র শাসনব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং অভিন্ন সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম জ্ঞান বিনিময় এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ফেলোশিপের সুযোগ পাওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এ ধরনের ফেলোশিপ আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং অভিন্ন সামুদ্রিক সমস্যার সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগের পরিচালিত এ ফেলোশিপের আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান রিসোর্সেস অ্যান্ড সিকিউরিটি (এএনসিওআরএস)।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা যৌথ গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ পান। এ আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের মধ্যে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্জিত জ্ঞানের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিমরাডের পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগাতে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব, কার্যকর সমুদ্র শাসনব্যবস্থা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা সামুদ্রিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
The post ব্লু ইকোনমি বিকাশে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় গুরুত্ব appeared first on Dhaka Protidin.
