বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের লড়াইটা শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। যে সমীকরণ মেলাতে একসময় রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল, টানা চার সিরিজ জিতে সেই বাধা পেরিয়েছে দল। এখন আর র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে থাকার উদ্বেগ নেই। বরং লক্ষ্য আরও ওপরে ওঠা। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় খেলতে যাওয়ার আগে র্যাঙ্কিংয়ের পাঁচ কিংবা ছয়ে জায়গা করে নিতে চায় বাংলাদেশ। টানা চার সিরিজ জিতে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার লক্ষ্য আরও বড়!
সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন করে পথচলা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। অধিনায়কত্বেও এসেছে পরিবর্তন। টানা চার সিরিজ জিতিয়ে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথ তৈরি করা মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে।
আগামীকাল শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়েই পূর্ণ মেয়াদে অধিনায়কত্বের নতুন অধ্যায় শুরু করবেন লিটন।
বিশ্বকাপের গ্রুপিংও চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নেই, বরং নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাই জানিয়েছেন, ‘আমাদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা আগেই শুরু হয়েছে। আমরা খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। যেহেতু তা শেষ পর্যন্ত হয়ওনি, তাই এখন লক্ষ্য র্যাঙ্কিংয়ে যেন ৫–৬ এ থেকে বিশ্বকাপে যেতে পারি।’
বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ও পেস বোলিং বিভাগ নিয়ে আপাতত বড় কোনো অস্থিরতা নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে দলে ফেরার পর লিটন মিডল অর্ডারে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। পেসাররাও সুযোগ পেয়ে নিজেদের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন। কিন্তু স্পিন বিভাগে এখনো কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য খুঁজে পায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটের কথা মাথায় রেখে স্পিন আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনা চলছে। সেখানে সাধারণত বাউন্স বেশি থাকে, যা বাঁহাতি স্পিনারদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বল ঘোরানোর সামর্থ্য দিয়ে মাঝের ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখার পাশাপাশি উইকেট এনে দেওয়ার প্রত্যাশা তার কাছে।
অন্যদিকে রিশাদ হোসেনের ফর্মও কিছুটা ভাবাচ্ছে নির্বাচকদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে পেয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। ফর্মের কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরেও তাকে একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে। স্পিন বিভাগে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তার সঙ্গী হিসেবে কাকে খেলানো হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আলিসের জন্য তাই ত্রিদেশীয় সিরিজে একাদশে জায়গা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সূচিও খুব বেশি ওয়ানডে খেলার সুযোগ দিচ্ছে না। বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকায় নভেম্বরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে দল। এরপর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সূচিতে আর কোনো ওয়ানডে নেই। যদিও জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ কিংবা পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বকাপের আগে আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপও খেলবে বাংলাদেশ।
এত সীমিত প্রস্তুতির মধ্যে দলকে যতটা সম্ভব গোছানোই এখন নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের বড় চ্যালেঞ্জ। হাবিবুল বাশার সুমন তাই শুধু একটি সিরিজের ফল নয়, দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন চাওয়া, আমরা যেন বিশ্বকাপ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি। সেটা তখন বিশ্বকাপে গিয়ে কাজে লাগবে।’
সেই ধারাবাহিকতার প্রথম পরীক্ষায় আগামীকাল থেকেই শুরু আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ। আবুধাবিতে অনুশীলন শেষে মোসাদ্দেক হোসেনও শিরোপা জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজটি যদি জিততে পারি, তাহলে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপে অনেক আত্মবিশ্বাস পাব।’
ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ দল:
লিটন দাস (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও আলিস আল ইসলাম।
