Published on
:
2 min read
সঞ্জয় চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি
গোর্খাদের পুজোই পাহাড়ে বাঙালি পর্যটকদের কাছে দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ। দার্জিলিং ম্যালে মহাকাল পাহাড়ের কোলে তৈরি গ্যালারিতেই গোর্খাদের দুর্গাপুজো শুরু হয় প্রতিপদ থেকে। বাঙালির পুজো শুরু হয় ষষ্ঠীর বোধন দিয়ে। দুটো পুজোই শেষ হয় দশমীতে। তবে সপ্তমীতে গোর্খাদের পুজোর বিশেষত্ব হলো ফুলপাত্তি উৎসব। নিজেদের সম্প্রদায়ের পোশাক পরে গোর্খারা ওই দিন মিলিত হয়ে শোভাযাত্রায় সামিল হন।
বাঙালির পুজোয় এই একত্রিত হওয়ার ছবিটা দেখতে পাওয়া যায় দশমীতে। বাঙালিরাও পাহাড়ে দেদার পুজো করে আসছেন। দার্জিলিংয়ের জজ বাজারের হিন্দু মিলন মন্দিরের পুজো এ বার ১১২ বছরে পড়ল। এই পুজোর সঙ্গে বর্ধমানের রাজ পরিবার জড়িত। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রতাপাদিত্য গুহ বলেন, 'কেবল পুজোই নয়, এই কয়েকদিন নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পর্যটকরা সেগুলি উপভোগ করেন।'
ম্যাল থেকে জজ বাজার, দূরত্ব অনেকটাই। তাই দার্জিলিংয়ে পুজোর সময়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে ম্যালের পুজোর আকর্ষণই বেশি। এ বছরও তার অন্যথা হচ্ছে না। এখন থেকেই পর্যটকরা ম্যালের ওই পুজো মণ্ডপে ঢু মারছেন। গোর্খাদের প্রতিমা দর্শন করে তবেই ফিরছেন। ভগিনী নিবেদিতার জন্য বিখ্যাত দার্জিলিংয়ের সিংমারির রায় ভিলাতেও এ বার পুজো হচ্ছে। এর বাইরে পুজো হচ্ছে নানা সংগঠন এবং বাড়িতেও।
কার্শিয়াংয়ের রাজরাজেশ্বরী হলের দুর্গাপুজো বিখ্যাত। এটি বাঙালির পুজো। তবে কার্শিয়াং মোটর স্ট্যান্ড থেকে বেশ খানিকটা দূরে। একদম শহরের হৃৎপিন্ডে বাঙালিদের দুর্গাপুজো হয় কালিম্পং থানার পিছনে মিলনি ক্লাবের উদ্যোগে। পর্যটকরা অষ্টমীতে ভিড় করেন অঞ্জলি দিতে। কালিম্পং মিলনি ক্লাবের সহ-সভাপতি সুব্রত মান্না বলেন, 'পুজোর সময়ে এত ফোন আসে যে দম ফেলার ফুরসত থাকে না। সবার একটাই আবদার, অঞ্জলি কখন হবে?'
কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের পর্যটন শাখার চেয়ারম্যান সম্রাট স্যানাল বলেন, 'পর্যটনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সংস্কৃতির আদানপ্রদান। ম্যালে গোর্খাদের পুজো একসঙ্গে দুটো কাজ করছে। একে তো পুজোর আনন্দ নিতে পারছেন পর্যটকরা। অন্যদিকে গোর্খাদের পুজো নিয়ে কৌতূহলও মিটছে।' দার্জিলিং ম্যাল দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি কমল ছেত্রীর বক্তব্য, 'এ বার আমাদের পুজো ন'বছরে পড়ল। পর্যটকদের গোর্খাদের পুজো নিয়ে অসীম আগ্রহ। এটা আমরাও উপভোগ করি।'
