মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতা দখলের পর ৬ অক্টোবর ২০২২ তারিখে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। সামরিক বাহিনী হতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতি পল হেনরি দামিবাকে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীকে দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে পাল্টা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইব্রাহিম ট্রাওরে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা দখলের পরপরই তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে তোষণের নীতির পরিবর্তে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেন। প্রথমেই তিনি দেশ থেকে মার্কিন ও ফ্রেঞ্চ সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে দেশ দুটিকে বাধ্য করেন। এর পরিবর্তে তিনি রাশিয়ার মার্সেনারি গ্রুপ ‘ওয়াগনার’কে দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও ইসলামি জঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য নিয়োগ করেন। এরপর থেকেই তিনি এবং তার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্বের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঔপনিবেশিক অপশাসন
ইতোপূর্বে ‘আপার ভোল্টা’ নামে পরিচিত দেশটিতে উনিশ শতকের শেষ দিকে ফ্রান্স উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৮৯৬ সালে দেশটিকে ‘ফ্রেঞ্চ ওয়েস্ট আফ্রিকা ফেডারেশন’ এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। বিশ শতকের শুরুর দিকে দেশটিতে স্বায়ত্তশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫৬ সালে গঠিত ‘ভোল্টায়িক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন শুরু করে। ১৯৬০ সালে আপার ভোল্টা ফ্রান্সের নিকট হতে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু তার পরও দেশটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অজুহাতে ফ্রান্স সামরিক অবস্থান বজায় রাখে।
১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট টমাস সানকারা দেশটির নাম পরিবর্তন করে ‘বুরকিনা ফাসো’ রাখেন। এরপর থেকেই দেশটি একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গেছে। ফলে একদিকে যেমন দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছে।
দেশটিতে ইসলামী জঙ্গীগোষ্ঠীর উত্থানের অন্যতম বড় কারণ হলো এই ঔপনিবেশিক শাসন। ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসকরা স্থানীয় জনগণকে স্বর্ণের মত মূল্যবান খনিজসম্পদ আহরণে বাধ্য করত। তাছাড়া, তুলা ও অন্যান্য রপ্তানীযোগ্য পণ্য উৎপাদনেও স্থানীয় কৃষকদেরকে বাধ্য করা হতো, ফলে কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে পারতেন না। অল্প কয়েক ধরণের ফসল উৎপাদনে কৃষকরা বাধ্য হওয়ায় অধিক উৎপাদনের কারণে এসব পণ্যের বাজার মূল্য কমে যেত, ফলে আবার কৃষকদের জীবনমানের অবনতি হতো।
এছাড়া, ঔপনিবেশিক শাসকরা কৃষকদের ওপর আরোপ করেছিল বিপুল পরিমান কর। এই কর পরিশোধ করতে গিয়ে একদিকে যেমন তারা হতদরিদ্র অবস্থা হতে বের হতে পারতেন না, তেমনি অনেক সময়েই তাদের উৎপাদিত পণ্য অনেক কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতেন। ফলে স্থানীয় জনগণ দারিদ্রতা থেকে কখনোই বের হতে পারতেন না।
সাধারণভাবে ঔপনিবেশিক শোষণের কারণে উপনিবেশ স্থাপনকারী দেশ শোষিত দেশগুলোকে তাদের স্বাধীনতার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা। এ কারণে খুব জোরালোভাবে না হলেও ভারত মাঝে মধ্যে ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে বৃটেনের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে থাকে (২০০ বছরের বৃটিশ শাসনের সময় ভারতীয় উপমহাদেশ হতে বৃটেন আনুমানিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের সম্পদ বৃটেনে পাচার করেছে বলে কোনো কোনো গবেষক মত প্রকাশ করে থাকেন)। বিশেষ করে ১০৬ ক্যারেট ওজনের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হিরা ‘কোহিনূর’ ফেরত দিতে ভারত প্রায়ই দাবি তুলে থাকে, যেটি এখন বৃটিশ রাজমাতার মুকুটে সন্নিবেশিত রয়েছে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ক্ষতিপূরণ দেওয়া তো দূরের কথা, বুরকিনা ফাসোসহ আফ্রিকার ১৫টি সাবেক ফ্রেঞ্চ উপনিবেশ তাদের স্বাধীনতার পর এখনও ফ্রান্সকে ‘উপনিবেশ কর’ দিয়ে থাকে, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। উপনিবেশ থাকাকালীন এই দেশগুলোতে খনিজসম্পদ আহরণ ও অন্যান্য কারণে ফ্রান্স যৎসামান্য যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে তার মূল্য পরিশোধ বাবদ এই কর দেখানো হয়। এই কর পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় অনেকবার এসব দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে, যার পিছনে ফ্রান্স সরকারের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
২০২৫ সালে এসেও আফ্রিকার ১৪টি ভূতপূর্ব ফ্রেঞ্চ উপনিবেশ ফ্রান্সের মুদ্রা ফ্রাঁ’কে তাদের নিজস্ব মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে। দেশগুলো হলো- বেনিন, বুরকিনা ফাসো, আইভরি কোস্ট, গিনি বিসাউ, মালি, নাইজার, সেনেগাল, টোগো, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকোয়োটোরিয়াল গিনি ও টোগো।
নিজস্ব লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ফ্রাঁ ব্যবহারের কারণে এই দেশগুলো এখনও অর্থনৈতিকভাবে ফ্রান্সের উপর নির্ভরশীল।
আবার, ঐতিহাসিকভাবে এই দেশগুলোকে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংকো ডি ফ্রান্সে’ জমা রাখতে হয়। তাছাড়া, এসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফ্রান্সের প্রতিনিধি থাকেন। এর ফলে এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক নীতি প্রকৃতপক্ষে তাদের নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়, বরং ফ্রান্সের রাজস্ব বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ট্রাওরের গৃহীত পদক্ষেপ
ট্রাওরের ক্ষমতা দখলের আগে দেশটি মারাত্মক সামাজিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল। ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে রেখেছিল। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ স্থান তাদের দখলে ছিল। বিভিন্ন শহরের মধ্যে যোগাযোগের সড়কগুলো প্রায়শই বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হতো। খনিগুলো থেকে উত্তোলিত স্বর্ণ ও ইউরেনিয়াম স্থানীয় জনগণের কোনো উপকারেই লাগতো না। দেশের জনগণ সার্বক্ষণিকভাবে বাড়িতে বা বাজারে হামলার ভয় নিয়ে বসবাস করতেন।
সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে দেশের সিলাজি অঞ্চলে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা একটি বোমার বিস্ফোরণে একটি বাস ধ্বংস হলে তা জনগণের ভীতি বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছিল, কিন্তু তাদের ওপর জনগণের কোনো আস্থা ছিল না। যদিও দেশটিতে তখন মার্কিন ও ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটি ছিল, কিন্তু তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়।
এ সংকটের মধ্যেই ইব্রাহিম ট্রাওরে ক্ষমতা দখল করেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি সামরিক ইউনিটগুলোকে পুনর্গঠন করেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে একটি সামরিক ব্রিগেড গঠন করেন।
তিনি সীমান্ত সুরক্ষার উদ্যোগ নেন এবং সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে রাত্রিকালীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেন। ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সন্ত্রাসবাদ দমনে সর্বশক্তি নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে থাকা দেশের ৪০ শতাংশ ভূমি উদ্ধারে ‘যেকোন পদক্ষেপ গ্রহণের আইনি কাঠামো’ তৈরি করা হয়।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেখা যায়, দেশের নিরাপত্তার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেকখানি উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, দেশে স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করেছে এবং অস্থিতিশীল অঞ্চলগুলোতে শাসনব্যবস্থার উন্নতি দেখা যাচ্ছে।
বুরকিনা ফাসো সাম্প্রতিক সময়ে চীন হতে প্রচুর অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০০ এর বেশি যুদ্ধযান, সেলফ প্রপেলড মর্টার বন্দুক, মাল্টিপল রকেট লঞ্চ সিস্টেম, ড্রোন, যুদ্ধবিমান, পরিবহন যান, বিভিন্ন অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম। এগুলোর মাধ্যমে বুরকিনা ফাসো ইসলামি জঙ্গীগোষ্ঠীকে আরও সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৈন্যরা অনেক দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে জঙ্গীগোষ্ঠীর উপর লক্ষ্যভেদী হামলা করতে পারবে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে ট্রাওরের গৃহীত কিছু পদক্ষেপ
ইব্রাহিম ট্রাওরে ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশের রাস্তাঘাট ও শহরাঞ্চলের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সহজ হয়েছে। বহু বছর যাবত বুরকিনা ফাসোর দূরবর্তী শহরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তাগুলো ছিল প্রায় অগম্য। ট্রাওরের নেতৃত্বে রাজধানী ওয়াগাডুগোসহ বড় শহরগুলোর প্রধান প্রধান সড়কগুলোর আধুনিকায়ন শুরু হয়। ‘ফাসো মিবো’ প্রচেষ্টা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফাসো মিবো অর্থ হলো দেশকে পুনর্গঠন করা, যা মূলতঃ আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া জনগণের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়। ফাসো মিবো প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে ৩৩২ কিমি দীর্ঘ ওয়াগাডুগো হতে বোবো ডুলাসো হাইওয়ে তৈরিতে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে কোনো বিদেশি ঋণ ছাড়াই প্রায় ৩৫৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। এই ৩৩২ কিমি দীর্ঘ রাস্তাটি আফ্রিকার ভূ-বেষ্টিত সাহেল দেশগুলোকে আইভরিকোস্টের আবিদজান, টোগোর লুমা ও ঘানার টেমা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই কাজে স্থানীয় জনগণকে শ্রম, অর্থ বা প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করা হয়। সরকারের মন্ত্রীরাও এই অনুদানে অংশ নিয়েছেন। পুরো প্রকল্পে স্থানীয় কন্ট্রাকটর, ইঞ্জিনিয়ার ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করা হয়েছে।
রাস্তার উন্নয়নে পাথর আনা-নেওয়া, সৌন্দর্য বৃদ্ধি ইত্যাদি কাজে ছাত্র, সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নেন। ফলে প্রকল্প হতে অর্জিত অর্থনৈতিক সুবিধাদি দেশেই রয়ে গেছে, যা স্বনির্ভরতার অর্জনের কৌশলগত প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করেছে। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে উদ্বোধন করেন। ফাসো মিবো প্রকল্পের আওতায় বছরে ৩ হাজার হতে ৫ হাজার কিমি পর্যন্ত রাস্তা স্থানীয় কন্ট্রাকটর ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে।
ঘানা ও বুরকিনা ফাসোর মধ্যে একটি নতুন রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এটি ঘানার টেমা বন্দর হতে বুরকিনা ফাসোর ওয়াগাডুগো পর্যন্ত যাবে। ইন্ডিয়া-এক্সিম ব্যাংকের ৪৪৭ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে ৯৫০ কিমি দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেক বাড়বে; যার ফলে প্রতিবেশি দেশ দুটির জনগণের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে, বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং ব্যয়ও অনেক কমবে।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাহারা মরুভূমির আয়তন বাড়ছে। ফলে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো বুরকিনা ফাসোর জলবায়ুর গড় উষ্ণতাও দিন দিন বাড়ছে। ফলে চাষের জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে এবং পানীয় জলের সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
ইব্রাহিম ট্রাওরে মরুভূমির মধ্যেই একটি শহর গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন যা হবে টেকসই ও স্বনির্ভর। এই শহরের বাড়িগুলো তৈরি হবে কাদামাটি ও কাঁচ দিয়ে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে এবং লাগানো হবে প্রচুর গাছ। সাহারা মরুভূমির আয়তন বৃদ্ধি ঠেকাতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল মুভমেন্ট’ শুরু করেছে, যেখানে ২০টি দেশকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় সাহেল অঞ্চলে সাহারার প্রান্তসীমার দেশগুলোতে ৮ হাজার কিমি আয়তনের একটি বৃক্ষের প্রাচীর নির্মাণ করা হবে যা সাহারার আয়তন বৃদ্ধি ঠেকাবে। বুরকিনা ফাসো এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা দেশ। দেশটির রাজধানী ওয়াগাডুগোর প্রায় ২ হাজার হেক্টর বিরান জমিতে বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মরুকরণ ঠেকানোর পাশাপাশি জনগণের খাদ্যের সমস্যা কমবে, বৃষ্টিপাত বাড়বে এবং ইকোসিস্টেম সংরক্ষিত হবে।
কৃষিজমিতে জলসেচের জন্য বুরকিনা ফাসোতে তৈরি হচ্ছে আফ্রিকার বৃহত্তম ‘বামা খাল’। এটি তৈরি হচ্ছে রেকর্ড মাত্র ৮ মাস সময়ে এবং কোনো বৈদেশিক ঋণ বা সাহায্য ছাড়াই। এমনকি কোনো বিদেশি পরামর্শকও এ কাজে নিয়োগ করা হয়নি। এই খালের মূল উৎস হচ্ছে ১০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি সংরক্ষণের উপযোগী ডিয়ারাডুগো বাঁধ। এই বাঁধ ও খাল তৈরিতে মোট খরচ হচ্ছে ৬ বিলিয়ন সিএফএ ফ্রাঁ (পশ্চিম আফ্রিকার ৮টি দেশ বেনিন, বুরকিনা ফাসো, আইভরিকোস্ট, গিনি বিসাউ, মালি, নাইজার, সেনেগাল ও টোগো মিলে ‘ওয়েস্ট আফ্রিকান ইকোনোমিক অ্যান্ড মনিটারি ইউনিয়ন (UEMOA) গঠন করেছে, যারা সবাই এই মুদ্রাটি ব্যবহার করে)।
দেশটির বামা অঞ্চলে জমি চাষযোগ্য, ছোট ছোট বৃক্ষ সমৃদ্ধ, কিন্তু পানির অভাবে এখানে ফসল উৎপাদনের জন্য পূর্ববর্তী কোনো সরকার যথাযথ উদ্যোগ নেননি। এর আগে হুয়েট প্রদেশে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিকে ধান চাষের উপযোগী ও ৭০ হেক্টর জমিকে সবজি চাষের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। বামা খাল তৈরির পর আরও ২০০ হেক্টর জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসা হয়।
বামা খালের তীরে ফসল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়। ফসলের খামার হতে বাজার পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়। বামা খাল তৈরির পর দেশটির ফসল উৎপাদন বাৎসরিক ৫০ হাজার টন বৃদ্ধি পায় এবং ২ হাজারের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এটির সফলতার ভিত্তিতে আরও বাঁধ ও খাল নির্মাণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলা।
শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সমগ্র বুরকিনা ফাসোতে অসংখ্য স্কুল নির্মাণের কাজ চলছে। স্কুলগুলো তৈরি হবে আমদানিকৃত সিমেন্ট ও ইস্পাতের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ইটের ব্লক, কাঠ ও পাথর দিয়ে। বাড়িগুলোতে রাখা হচ্ছে উঁচু সিলিং, অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত ছাদ বিশিষ্ট, সূর্যালোক ব্যবহারের সুযোগ, ক্রস ভেন্টিলেশন সুবিধা এবং চওড়া দেয়াল। এই বাড়ি ও স্কুলগুলো ইতোমধ্যে ইকো-ফ্রেন্ডলি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এগুলোর নির্মাণ খরচ কম, মেইনটেন্যান্স সহজ ও তীব্র গরমের সময় আরামদায়ক। এই স্কুলগুলো তৈরিতে স্থানীয় জনগণ, অনেক ক্ষেত্রে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র/ছাত্রীরাও অংশ নিয়েছে।
বুরকিনা ফাসোতে বছরের ৩০০ দিনের বেশি সূর্যালোক পাওয়া যায়। ফলে সৌরশক্তি উৎপাদন ও ব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে দেশটিতে। বালে প্রদেশের ৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ‘পার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প’ পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প। ফলে বহু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এর আগে বুরকিনা ফাসো প্রতিবেশি দেশগুলো হতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতো। ১৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ডেগুডো সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে দেশটিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
পানির দুষ্প্রাপ্যতা আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় সব দেশের জন্যই অন্যতম বড় সমস্যা। বুরকিনা ফাসোও এর বাইরে নয়। ফলে শহরগুলোর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা এই সমস্যা সমাধানকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, মাটির নিচের জলাধারে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা চাষাবাদের জলসেচ ও সেনিটেশনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডিজেলচালিত পাম্পের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে জলসেচ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাড়িঘরে ব্যবহৃত পানি বিশুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। রাস্তার বাতিগুলোকে সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে।
দেশকে ডিজিটালাইজড করারও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যবাজারের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাচ্ছেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক পরামর্শ পাচ্ছেন, যা পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। স্বাস্থ্যখাতেও টেলিমেডিসিন ব্যাপক ভূমিকা রাখছে, জনগণ ডিজিটাল মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন।
ইব্রাহিম ট্রাওরে ক্ষমতা দখলের পর বিদেশি কোম্পানির হাতে থাকা স্বর্ণ ও ইউরেনিয়াম খনিগুলো জাতীয়করণ করেন। বংগু ও ওয়াগনিয়নের মতো স্বর্ণখনিগুলোকে জাতীয়করণ করার ফলে খনিগুলো হতে দেশের আয় অনেক বেড়ে গেছে। ২০২২ সালের শেষ হতে এ যাবত রাষ্ট্রীয় রাজস্ব প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে, যা এর আগে বিদেশি কোম্পানি হতে আরও অনেক কম পাওয়া যেত।
স্বর্ণখনিগুলো হতে অর্জিত ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ফাসো মিবো প্রচেষ্টার আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবছর তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক। এই অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে জাতীয় স্বর্ণ পরিশোধনকেন্দ্র স্থাপনে এবং বিমানবন্দর উন্নয়নে। এছাড়া, এই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবা খাত ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করা হচ্ছে।
ইব্রাহিম ট্রাওরে ২০২৫ সালে বুরকিনা ফাসোর ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রায় ৯৪ টন স্বর্ণ উত্তোলন নিশ্চিত করেছেন। এটি করা সম্ভব হয়েছে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে খনিগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে আসার কারণে। এর আগের সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ২০২১ সালে ৬৭ টন।
দেশটির খনি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৯০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনার কারণে খনির মুনাফার ১৫ শতাংশ এখন রাষ্ট্র পাচ্ছে, যা আগে ১০ শতাংশ পেত। মোট ৫টি স্বর্ণখনি পুরোপুরি জাতীয়করণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে আরও ১০টি খনি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খনিগুলো সম্পূর্ণরূপে বুরকিনার বিনিয়োগকারীদের দ্বারা পরিচালিত হবে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান দ্বারা নয়। স্বর্ণ হলো বুরকিনা ফাসোর প্রধান রপ্তানি পণ্য ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড। স্বর্ণ উৎপাদনের এই প্রবৃদ্ধি বুরকিনা ফাসোকে খনিজ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সাহেল অঞ্চলের অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে আবির্ভূত করেছে।
ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বে বুরকিনা ফাসোর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশে এবং ২০২৫ সালে হয় ৪ দশমিক শতাংশ।
মাথাপিছু আয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও দেখা যায়, ২০২১ সালে দেশটির মাথাপিছু আয় ছিল ৮৯৫ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালে কিছুটি কমে ৮৩৬ ডলার হলে ২০২৩ সালে পুনরায় বেড়ে ৮৮৩ ডলারে উন্নীত হয়।
আবার, দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার ২০২২ সালে ১৪ শতাংশ থাকলেও ২০২৩ সালে এটি ১ শতাংশেরও নিচে নেমে যায় এবং ২০২৪ সালেও এটি মাত্র ৪ শতাংশে অবস্থান করে। অর্থাৎ ইব্রাহিম ট্রাওরে ক্ষমতা দখলের পর দেশটির অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।
জিডিপি’র হিসেবে বুরকিনা ফাসো ২০২৪ সালে ২৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১২৩তম স্থানে অবস্থান করছিল, যা ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার হয়।
২০২৩ সালে দেশটি মোট ৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং ৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ২০২৪ সালে দেশটির রপ্তানি বেড়ে প্রায় ৮ দশমিক ৯৮ বিলিয়নে এবং আমদানি কমে ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উপনীত হয়। দেশটি মূলতঃ স্বর্ণ, কাঁচা তুলা, নারকেল, বাদাম, তৈলবীজ, সিমেন্ট ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করে এবং রপ্তানি পণ্যের প্রধান প্রধান গন্তব্য হলো সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উগান্ডা, ভারত, আইভরিকোস্ট ইত্যাদি দেশ।
তাছাড়া, দেশটি মূলতঃ পরিশোধিত জ্বালানি তেল, ঔষধিপণ্য, বিদ্যুৎ, চাল ইত্যাদি পণ্য আমদানি করে এবং প্রধানত চীন, আইভরিকোস্ট, রাশিয়া, ঘানা ও ফ্রান্স হতে এসব পণ্য আমদানি করা হয়।
দেখা যাচ্ছে, আমদানি ও রপ্তানির জন্য দেশটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়। এ কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দেশটির উপর খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। অবশ্য রাশিয়া ও চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তাও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেশটির টিকে থাকার পিছনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে (২০২৪ সালে রাশিয়া বুরকিনা ফাসোসহ ৬টি আফ্রিকান দেশকে বিনামূল্যে ২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য দেয়)।
উপসংহার
পূর্ববর্তী পশ্চিমাপন্থি সামরিক শাসককে হঠিয়ে ক্ষমতা দখল; এর পরপরই দেশ হতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে তাদের সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য করা এবং চীন ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণের কারণে শুরু থেকেই ইব্রাহিম ট্রাওরে পশ্চিমাদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। দেশটির উপর আরোপ করা হয় সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। পশ্চিম আফ্রিকান জোট ‘ইকোনোমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস্’ (ইকোয়াস) হতে বুরকিনা ফাসোকে বহিষ্কার করা হয়, যদিও সদস্যভুক্ত দেশগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন দেয়নি। ফ্রান্স ২০২২ সালে প্রকল্প সাহায্য খাতে ৪৮২ মিলিয়ন ইউরো ও বাজেট সহায়তা বাবদ ১৩ মিলিয়ন ইউরো দিলেও ২০২৩ সালে তা বন্ধ করে দেয়।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্রও ২০২২ সালে দেশটিকে প্রদেয় প্রায় ১৬০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বাতিল করে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও ইব্রাহিম ট্রাওরেকে দমিয়ে রাখা যায়নি। ঔপনিবেশিক শোষণের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থাকায় দেশের জনগণ ট্রাওরের গৃহীত উদ্যোগগুলোকে ব্যাপক সমর্থন দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার হত্যাচেষ্টা হতে বেঁচে যাওয়া ইব্রাহিম ট্রাওরে কতদিন নিজের এই জনপ্রিয়তা ধরে রেখে তার দেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
লেখক: নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক
