মাঠের বাইরের নানা বিতর্ককে পাশে সরিয়ে এই মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দেই এগোচ্ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচেই জয়, গোলের বন্যা আর প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছিল পেপ গার্দিওলার সাবেক দল।
তবে সেই দুর্দান্ত ছন্দে এবার বড় ধাক্কা দিল পিএসজি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে লুইস এনরিকের দল দেখিয়ে দিল, কেন তারা টুর্নামেন্টের টানা দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন এবং কেন টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার।
ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে ১৫ অক্টোবর (বুধবার) মুখোমুখি হয় পিএসজি ও ম্যানচেস্টার সিটি । ম্যাচের প্রথমার্ধেই সিটির জালে তিনবার বল পাঠায় পিএসজি। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসি ক্লাবটি। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম পরাজয়ের মুখ দেখল সিটি।
পিএসজির জয়ের ভিত গড়ে দেয় প্রথমার্ধের আক্রমণাত্মক ফুটবল। গ্যালারিতে বসে সাবেক দলের এই অসহায়ত্ব দেখেছেন পেপ গার্দিওলা। মে মাসে ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার পর এই প্রথম ইতিহাদে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু তার প্রত্যাবর্তনের রাতে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজেদের মাঠে এটিই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছে। গ্যালারিতে সমর্থকদের প্রতিবাদও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে মাঠের খেলায় পিএসজিকে আটকাতে সেই প্রতিবাদ কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ম্যাচের ১৩ মিনিটেই গোলের খাতা খোলে পিএসজি। দেজিরে দুয়ের নিচু শটে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। দুই মিনিট পর আবারও গোলের উৎস হয়ে ওঠেন দুয়ে। তার বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল সিটি। কিন্তু ৩২ মিনিটে তাদের রক্ষণে আবারও ফাটল ধরায় পিএসজি। ম্যাগনেস আকালিউশ ও ওয়ারেন জাইরে এমেরির দারুণ সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ শেষ করেন ভিতিনিয়া। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
বিরতির সময় দলকে নতুনভাবে সাজাতে তিনটি পরিবর্তন আনেন সিটি কোচ এনজো মারেসকা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিকেরা। দ্রুতগতির আক্রমণে পিএসজির রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে তারা। বিরতির আট মিনিট পর ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান আর্লিং হলান্ড।
এই গোলের মধ্য দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন রেকর্ড গড়েন হলান্ড। সের্হিও আগুয়েরোর ৬৪ ম্যাচে ৩৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে মাত্র ৪১ ম্যাচে ৩৭ গোল নিয়ে ক্লাবটির প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতা হন নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার। পাশাপাশি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ৬০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন হলান্ড। এই কীর্তি গড়তে মেসির যেখানে ৮০ ম্যাচ লেগেছিল, সেখানে হলান্ডের প্রয়োজন হয়েছে ২০ ম্যাচ কম।
হলান্ডের গোলের পর ম্যাচে ফেরার আশা দেখতে শুরু করেছিল সিটি। কিন্তু ৬২ মিনিটে সেই আশায় আবারও আঘাত হানে পিএসজি। আকালিউশের শট প্রথম প্রচেষ্টায় ঠেকিয়ে দেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। তবে ফিরতি বলটি তাঁর পেছন দিয়ে গড়িয়ে জালে ঢুকে গেলে ব্যবধান আবারও বাড়িয়ে নেয় পিএসজি।
এরপরও লড়াই থামায়নি সিটি। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান আরও কমান হলান্ড। পরবর্তী আরেকটি আক্রমণেও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ দুর্দান্ত দক্ষতায় তার শট রুখে দিয়ে সিটির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনায় বাধা হয়ে দাঁড়ান।
ম্যাচের শেষ দিকে পিএসজির সামনে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। পেনাল্টি পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। ফেরান তোরেসের নেওয়া স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা।
তবে পেনাল্টি মিস কিংবা সিটির শেষ মুহূর্তের লড়াই, কোনো কিছুই ম্যাচের চূড়ান্ত চিত্র বদলাতে পারেনি। গার্দিওলার ইতিহাদে ফেরার রাতটি শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল পিএসজির দাপট, কার্যকর আক্রমণ আর সিটির মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের গল্প।
