পুরুষ টেনিসে বছর শেষে নতুন বিশ্বসেরা নিশ্চিত হয়েছে। সাংহাইয়ে সোমবার তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে কার্লোস আলকারাজ হেরে যাওয়ায় বছরের শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন জার্মানির আলেকজান্ডার জভেরেভ।
২৯ বছর বয়সী বর্তমান বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে এই প্রথম বছরের শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকার কৃতিত্ব যোগ হতে যাচ্ছে। জুনে ফ্রেঞ্চ ওপেন এবং সেপ্টেম্বরে ইউএস ওপেন জয়ের পর দুর্দান্ত একটি মৌসুমের মুকুট হবে এই অর্জন।
ফ্রেঞ্চ ওপেন ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।
এটিপি ট্যুরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জভেরেভ বলেন, ‘প্যারিস ও নিউইয়র্কে শিরোপা জেতার পর আমার জন্য এটি অসাধারণ একটি মৌসুম ছিল। বছর শেষে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকব- এটি সত্যিই স্বপ্ন পূরণের মতো।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে অনেক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হয়েছে, বিশেষ করে গোড়ালির চোট কাটিয়ে ফেরার পর।’
২০২২ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ফেলে দেয়া গোড়ালির গুরুতর চোটে পড়েছিলেন জভেরেভ।
জার্মানির প্রথম পুরুষ টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বছরের শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন তিনি। এবারই প্রথমবারের মতো বছর শেষে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা খেলোয়াড়কে ট্রফি দিয়ে সম্মাননা জানানো হবে। আগামী মাসে এই ট্রফি হাতে নেয়া সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার কৃতিত্বও গড়বেন জার্মান এই তারকা।
জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কারবার ও স্টেফি গ্রাফ- দুজনই নারী টেনিসে বছরের শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান অর্জন করেছিলেন।
জভেরেভের এই সাফল্য এসেছে এমন এক বছরে, যখন এর আগে শীর্ষস্থান দখলে রাখা দুই খেলোয়াড়- ইতালির ইয়ানিক সিনার ও স্পেনের আলকারাজ চোটের কারণে কয়েক মাস প্রতিযোগিতার বাইরে ছিলেন।
বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় সিনার উইম্বলডনের পর আর কোনো প্রতিযোগিতায় খেলেননি। সেখানে ফাইনালে তিনি জভেরেভকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন। গত সপ্তাহে হাঁটুর চোটের কারণে সিনার ঘোষণা দেন, চলতি মৌসুমে আর খেলবেন না।
অন্যদিকে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বর খেলোয়াড় আলকারাজ এপ্রিল থেকে ইউএস ওপেন পর্যন্ত কবজির চোটের কারণে কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন।
ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার জভেরেভ ছোটবেলা থেকেই শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন। তার পরিবারও টেনিসের সাথে জড়িত, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে তার মা-বাবা দুজনই শীর্ষ পর্যায়ে এই খেলাটি খেলেছেন।
