যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক খাতের সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশলকে সামনে রাখা হচ্ছে। নতুন ঋণ কর্মসূচি, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার এসব দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরছে। অন্যদিকে, আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগোলেও অর্থের পরিমাণ, শর্ত এবং সংস্কার বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কয়েক মাসের আলোচনায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আরও পড়ুন
নিজস্ব কৌশলে সংস্কার, সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক অংশীদাররা
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এবার বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এর ফলে দেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সংস্কারের যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী সময়ে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও প্রতিফলিত হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, পরিকল্পিত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। আইএমএফ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক কোনো প্রশ্ন তুলেছে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।
নতুন ঋণে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়
আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে কর্মসূচির আওতায় কত অর্থ পাওয়া যাবে, কী কী শর্ত থাকবে এবং কোন সংস্কার কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুরো প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঋণ কর্মসূচির শর্ত, সংস্কারের অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও সময় লাগবে। আগামী কয়েক মাসের আলোচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আইএমএফের ঋণ পেতে শর্ত কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, এমন প্রশ্নে ড. তিতুমীর বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকার দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
সরকারের লক্ষ্য, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার পাশাপাশি সংস্কারের গতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে দেশের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে চায় সরকার।
প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস ৪.৭
অর্থনীতির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো। এ ক্ষেত্রে সরকারের আশাবাদী লক্ষ্যমাত্রা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।
ড. তিতুমীর জানান, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সরকার চলতি বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
সরকার এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সে দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। অতীতের তথ্য পর্যালোচনায় আইএমএফের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ তুলনামূলক সংরক্ষণশীল হওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং সংস্কারের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে সরকার যেসব সংস্কারের কথা বলছে, সেগুলোর বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।
মূল্যস্ফীতি কমানো ও দরিদ্র পরিবারকে সুরক্ষায় জোর
দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব যুক্ত হয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করেন ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পাশাপাশি অতীত থেকে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, অতীতে উপকারভোগী নির্বাচনে নানা সমস্যা ছিল। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকার বাইরে ছিলেন। আবার যাদের পাওয়ার কথা নয়, তাদের অনেকে সুবিধা পেয়েছেন। কর্মসূচিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি।
ড. তিতুমীরের ভাষ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে গত কয়েক বছরে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও ফারমার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ নিচ্ছে।
এসব কর্মসূচিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করতে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাকে উন্নয়ন সহযোগীরা ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান তিনি। তবে এসব পরিকল্পনার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বরাদ্দের পাশাপাশি সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
কর আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্য ১০ শতাংশ
বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতির অন্যতম দুর্বল জায়গা। উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ জনসেবামূলক খাতে অর্থের জোগান বাড়াতে রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
ড. তিতুমীর জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে করব্যবস্থার সংস্কার ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো গেলে উন্নয়ন ব্যয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অর্থায়নে সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ জন্য করের আওতা সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি ও অনিয়ম মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হবে।
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ
অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যাংক খাতকে চিহ্নিত করেছে সরকার। দুর্বল ব্যাংকের পুনর্মূল্যায়ন, ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
ড. তিতুমীর বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংক খাতে অতীতের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ লুটপাটের বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে।
তিতুমীরের মতে, এ অর্থ জনগণের। তাই আর্থিক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। যারা অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং যারা এ কাজে সহায়তা করেছে, তারা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়ম মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। লুটপাটকারীদের পাশাপাশি তাদের সহায়তাকারীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
ব্যাংক খাতের সংস্কারের ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন এবং সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ–সব বিষয়ই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একদিকে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরানো, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সরকার যে অবস্থান তুলে ধরেছে, তা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগিতার আলোচনা ইতিবাচক হওয়াই শেষ কথা নয়; এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সংস্কার কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, আর্থিক খাতে জবাবদিহি কতটা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং জনগণ কতটা সুফল পাচ্ছে তার ওপর।
আগামী কয়েক মাসে আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অগ্রগতিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা গত ১২ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে। চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সভায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
