কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সাঁকোটা দুলছে। আগামী ১১-২০ নভেম্বর মিসরে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের ৪৭তম আসর। এতে দুটি পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক সমালোচক সপ্তাহের এ বিভাগে বিশ্বের আরো পাঁচটি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে।
সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। প্রযোজনা করেছেন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মনোজ প্রামাণিক। বাংলাদেশের মনপাচিত্র ও জার্মানির মোগাদর ফিল্মের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত তিন নারীর জীবন, স্বপ্ন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নির্মিত হয়েছে সাঁকোটা দুলছে। কুসংস্কার, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো ও নানা বিধিনিষেধের মধ্যে নিজেদের মতো করে বাঁচার পথ খোঁজে তারা। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তরুণী। তার যাত্রায় রহস্যময় এক হাতি হয়ে ওঠে স্বাধীনতা, আশা ও প্রতিরোধের প্রতীক। সম্পূর্ণ সাদা-কালোয় নির্মিত সিনেমাটিতে গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নারীর জীবন, বিশ্বাস ও ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এর আগেও স্বীকৃতি পেয়েছে সিনেমাটি। ২০২৬ সালে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসরে এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা বিভাগে এর বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়। ওই উৎসবে সিনেমাটির চিত্রগ্রাহক সামিউল করিম সুপ্তক শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণের জন্য গোল্ডেন গোবলেট পুরস্কার অর্জন করেন। পরে রাশিয়ার আমুর অটাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও থিয়েটার উৎসবে শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণের জন্য গোল্ডেন ক্রেন পুরস্কার পায় সিনেমাটি।
এছাড়া চীনের তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ৩৫এমএম ফিল্ম ক্রিটিকস উইকের সমালোচকদের প্রস্তাবিত চলচ্চিত্রের তালিকায়ও স্থান পায় সাঁকোটা দুলছে। পাঁচটি নির্বাচিত চলচ্চিত্রের মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র বিদেশী চলচ্চিত্র।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া আক্তার, মুনসিফ মিম, অশোক বেপারী, পঙ্কজ পালিত ও রবিউস সানিসহ অনেকে।
