কলমাকান্দার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিব মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, বিভিন্ন খাতের অর্থ ব্যাংকে জমা না দেওয়া ও জমার স্লিপ জালিয়াতির অভিযোগে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। ইউএনও লিখিত অভিযোগ পেয়ে সচিবকে তলব ও বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। চেয়ারম্যানের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৪ লাখ ৫৩ হাজার ও সাধারণ তহবিল থেকে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিন খাতের এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক হিসাব থেকে একাধিকবার টাকা তোলা হলেও বিষয়টি চেয়ারম্যান জানতেন না। পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংক থেকে পরিষদের ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করার পর এ জালিয়াতি ও অসংগতি প্রকাশ পায়। দাপ্তরিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়েই সচিব এ আর্থিক অনিয়ম করেন বলে জানান চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘ব্যাংক স্টেটমেন্ট না তুললে এত টাকা সরানোর বিষয়টি জানতেই পারতাম না।’
এ বিষয়ে ইউপি সচিব মজিবুর রহমান জানান, স্বাক্ষর জালের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে তার কাছে কিছু টাকা থাকার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ইউএনওর দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা এবং কোন খাতের অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে নথিপত্র দেখে পরে জানাবেন বলে জানান তিনি। ইউএনও এনএম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সচিব মজিবুর রহমানকে তলব করা হয়েছে। সচিব প্রাথমিকভাবে তার কাছে কিছু টাকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।