পরিবারের সচ্ছলতা অর্জন থেকে শুরু করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা-গ্রামীণ নারীদের অবদান ছড়িয়ে আছে জীবনের নানা ক্ষেত্রে। দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন, জৈব সার তৈরি ও কুটিরশিল্পের মাধ্যমে তারা যেমন পরিবারের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তেমনি টিকিয়ে রাখছেন স্থানীয় জ্ঞান ও ঐতিহ্য।
এসব উদ্যোগ ও অবদানের স্বীকৃতি দিতে নেত্রকোনায় ৩৩ জন নারীকে দেওয়া হয়েছে ‘গ্রামীণ নারী সম্মাননা-২০২৬’।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে নেত্রকোনা সদর উপজেলার কুতুবপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এ সম্মাননা ও প্রদর্শনী মেলার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বারসিকের উদ্যোগে এবং গ্রিন কোয়ালিশনের সহযোগিতায় তৃতীয়বারের মতো এ আয়োজন করা হয়।
এ বছর ৩৩টি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ২৫ জন এবং কলমাকান্দা উপজেলার আটজন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারী রয়েছেন।
সম্মাননা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রদর্শনীতে গ্রামীণ নারীদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, দেশীয় বীজ ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে ছিল ৩৬ জাতের সবজি, ২২৫ ধরনের ধানের বীজ, ৭৩ জাতের সবজির বীজ, ১১ ধরনের জৈব বালাইনাশক, ২৭ জাতের অপ্রচলিত সবজি, ১৭ জাতের ফল এবং ১৪ ধরনের কুটিরশিল্পের উপকরণ।
আয়োজকদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা দেশীয় কৃষিবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান বলেন, গ্রামীণ নারীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্যোগকে সামনে নিয়ে আসা এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এতে নারীদের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চায় অন্যরাও উৎসাহিত হবেন।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার কুতুবপুরের পাশাপাশি কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের নয়াপাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারেও গ্রামীণ নারীদের নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, দেশকে উন্নত করতে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে নারী-পুরুষ সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। প্রান্তিক নারীদের সম্মাননা দেওয়া একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। সভ্যতার সূচনা হয়েছে নারীর হাত ধরে, আর ভবিষ্যতেও নারীদের হাত ধরেই সভ্যতা এগিয়ে যাবে।
গ্রামীণ নারীদের হাতে সংরক্ষিত দেশীয় বীজ, উৎপাদিত নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, সহযোগিতা ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে নারীদের অবদান আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
