বিরোধী দলের ছায়া সংসদ গঠনে বাধা নেই: ডেপুটি স্পিকার
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে বিরোধী দল ছায়া সংসদ গঠন করতে পারে এতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র সুসংহত করতে সরকারি ও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থার আদলে বিরোধী দলের ছায়া সংসদ থাকলে সরকারের নীতি, মন্ত্রিসভার কার্যক্রম ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। সংসদ কার্যকর না থাকলে দেশ আবারও বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সংস্কার না হলে সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের সুফল জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়; মেধা, নৈতিকতা ও গবেষণার মাধ্যমে যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম। ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
এলিস/নাঈম
আরও পড়ুন
বিটিভিকে বাণিজ্যিক চ্যানেল না করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) বাণিজ্যিক চ্যানেলে রূপান্তরিত করার পরিবর্তে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে এর অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনে সামাজিক প্রভাব, প্রাসঙ্গিকতা এবং জনগ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন কমিটির সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে সংরক্ষিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলের মধ্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এলিস/নাঈম
আরও পড়ুন
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুজন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন করে মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯৬ জন, চট্টগ্রামে ৩১৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯১, খুলনায় ২৩০, ময়মনসিংহে ৯৭, রাজশাহীতে ১৮৪, রংপুরে ৭১ এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪২ জন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রামে ২৮ জন, বরিশালে ২৬ জন, ময়মনসিংহে ২৪ জন, রাজশাহীতে ২২ জন, রংপুরে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সালমান/
আরও পড়ুন
রেলওয়ের জায়গা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে: রেলমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রেলওয়ের দখল হয়ে যাওয়া জমিগুলো চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে রেলের প্রয়োজনে এবং পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এসব জমি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ের ২৫ একর জায়গা এক সময় পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে পৌরসভা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জায়গা দখলে করে আছে। জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা বর্তমানে অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের জমি ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে লাইসেন্সের ভিত্তিতে এক বছরের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমানে লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। রেলওয়ের যে-সব জায়গা দখল হয়ে আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এসব জমি দখলমুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুরে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি রেলওয়ে আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে বসবাস করছেন প্রায় ৯০০ জন। পুরোনো আবাসনের জন্য যে পরিমাণ হাউস রেন্ট কাটা হয়, তার চেয়ে কম টাকায় বাইরে ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকে রেলওয়ের আবাসনে থাকতে আগ্রহী নন। ফলে আবাসনের কোনো সংকট নেই।
রেলওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলযাত্রার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় যাত্রীবান্ধব রেলসেবা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এটি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার। রেলওয়ের দুটি কারখানাকে কীভাবে এ উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা পর্যালোচনা করতেই সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে আসা।
তিনি বলেন, কারখানায় তৈরি কিছু যন্ত্রাংশের মান দেখে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। তবে এখানে রেলকোচ মেরামতের মান আরও উন্নত করতে হবে। পুরোনো কিছু মেশিন ভালো মানের হলেও কোচের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে জানালা মেরামতের ক্ষেত্রে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে পুনরায় সচল করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক-নার্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, একসময় এটি দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ও সুনামধন্য কারখানা ছিল। ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এখানে কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে রেলওয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও সে অনুযায়ী কারখানাটির উন্নয়ন হয়নি। একসময় এখানে প্রায় ১২ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হতো, যা বর্তমানে কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক যন্ত্রাংশ এখন আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ এ কারখানায় আরও অনেক যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব।
ফরহাদ হোসাইন/নাঈম
আরও পড়ুন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: খবরের কাগজ
-->পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়াও রাশিয়ার বাইরে রূপপুর রোসাটমের প্রথম প্রকল্প যেখানে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রোসাটম এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করছে আর ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রোসাটমের প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।
রোসাটমের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহকৃত এ ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট ৭ হাজারেরও বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হবে- যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা করবে।
এ ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস)। বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (আরএএসইউ) এটি তৈরি করেছে। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে সিস্টেমটি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি স্টার্ট-আপ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
রোসাটম জানায়, এআইসিএস ৩৬০টি প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে, সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্দেশনাসহ ৮০টিরও বেশি নির্দেশিকার ভিত্তিতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। জটিল পরিচালনা-সংক্রান্ত তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এটি অপারেটরদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং আরও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সহায়তা করে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পই নয়, আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি আমাদের একটি অগ্রণী প্রকল্প। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, এ সিস্টেম পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম কমাবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
জাহাঙ্গীর/নাঈম
