ঢাকা,১৫ অক্টোবর-সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবর মাসের বেতন নবম পে স্কেল অনুযায়ী পাবেন। এর সঙ্গে তিন মাসের বকেয়া বেতনও দেওয়া হবে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন এখনই জারি হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে দ্রুত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে পারেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখনো হতাশায় রয়েছেন। তাদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে আদেশ জারি করবে অর্থ বিভাগ।
অন্যদিকে, অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কবে আদেশ জারি করা হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এখনো অপেক্ষা করতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও বিচার বিভাগীয় কর্মীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করতে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের বেতনপ্রক্রিয়ায় অ্যানালগ পদ্ধতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশেষ করে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন হিসাবের কাজ হাতে-কলমে করতে হয়। এ কারণে প্রজ্ঞাপন জারি করতে দেরি হচ্ছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওর বাইরেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই আর্থিক সক্ষমতা নেই।
এস এম/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬
