মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা এবং সীমান্তে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে প্রস্তুত রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যে কোনো পরিস্থিতিতে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়েছে বিজিবি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। মিয়ানমারের রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিজিবি আমাদের দক্ষিণ সীমান্তে, ইনফ্যাক্ট দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে সকল ধরনের থ্রেট, সকল ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রেখেছি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগতা জানিয়ে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি যেভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির বিভিন্ন অভিযানের তথ্য তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
একই সময়ে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, প্রায় ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ, প্রায় ১২ কেজি হেরোইন ও কোকেন, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, অন্তত ২৪ হাজার বোতল ফেনসিডিল এবং প্রায় ১ লাখ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি এসএমজি, সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মানবপাচারবিরোধী অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পাচার হতে যাওয়া প্রায় ৪২ জন নারী ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের বিষয়ে বিজিবির পরিচালক বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদারের পাশাপাশি আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, ড্রোন এবং রাতের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিআলো/অর্নব